India on US-Iran Conflict

‘মজুত রয়েছে পর্যাপ্ত জ্বালানি, যুদ্ধের আঁচ পড়বে না’, ইরান হরমুজ প্রণালীতে বিধিনিষেধ জারির পরেই বলল ভারত

মঙ্গলবার সংঘর্ষের চতুর্থ দিনে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে (ছাড় দেওয়া হয়েছে শুধু রাশিয়া এবং চিনের তেলবাহী জাহাজকে)। কিন্তু তাতে আশঙ্কা দেখছে না ভারত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৯:০০
Amid war situation in West Asia Indian Government says, at present we are reasonably comfortable in terms of petroleum products stocks

তেলবাহী জাহাজ। ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভারতের বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহে আপাতত কোনও সংকট হবে না। মঙ্গলবার এই দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী, ‘‘পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত।’’

Advertisement

ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণে পশ্চিম এশিয়ায় তৈরি হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। মঙ্গলবার সংঘর্ষের চতুর্থ দিনে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে (ছাড় দেওয়া হয়েছে শুধু রাশিয়া এবং চিনের তেলবাহী জাহাজকে)। এর ফলে দেশের বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হলেও মঙ্গলবার হরদীপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নয়াদিল্লির প্রস্তুতি ব্যাখ্যা কতে গিয়ে বলেন, ‘‘দেশ জুড়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও মজুতের অবস্থার ক্রমাগত মনিটরিং করার জন্য আমাদের মন্ত্রক ২৪ ঘণ্টার সক্রিয় কন্ট্রোল রুম প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে, সরকার তেলের মজুতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সন্তুষ্ট। ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’

সংবাদ সংস্থা এএনআই পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের একটি সূত্র উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, দেশে এখন ২৫ দিনের পেট্রোল, ডিজেলের মজুত রয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের মোট পেট্রোপণ্য আমদানির ৪০ শতাংশ আসে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে চাপ বাড়তে পারে ভারতের উপর। এই পরিস্থিতিতে মোদী সরকার বিকল্প পথে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির জন্য সক্রিয় হয়েছে বলেও প্রকাশিত খবরে দাবি। এ প্রসঙ্গে হরদীপ বলেন, ‘‘ক্রমাগত মনিটরিংয়ের ভিত্তিতে, সরকার সতর্ক ভাবে পরিস্থিতি অনুকূল করতে প্রয়োজনে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ করবে।’’ তিনি জানান, বর্তমানে ভারত বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিকারক, চতুর্থ বৃহত্তম সংশোধনকারী (রিফাইনার) এবং পঞ্চম বৃহত্তম পেট্রোপণ্য রফতানিকারক।

পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলি এখন এমন জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দিচ্ছে যা হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সরবরাহিত হয় না। হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল এমন পণ্যের সরবরাহ আপাতত নিয়ন্ত্রিত থাকবে। হরমুজ প্রণালী এবং বাব এল-মানদেব প্রণালী দিয়ে পশ্চিম এশিয়া তো বটেই, আমেরিকা এবং ইউরোপেও ভারতের বাণিজ্যের অনেকটা হয়। সেগুলি বন্ধ হওয়ার ফলে ঘুরপথে পণ্য নিয়ে গেলে পরিবহণের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা ছাড়া ইরান ভারতীয় বাসমতী চালের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। প্রথম সৌদি আরব। হরমুজের প্রভাব চাল রফতানিতে পড়ার আশঙ্কাও প্রবল।

Advertisement
আরও পড়ুন