মাসুদ পেজ়েকশিয়ান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে খুন করার পরে এ বার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানকে মেরে ফেলতে সক্রিয় আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যৌথবাহিনী। রাজধানী তেহরানে পেজ়েকশিয়ানের দফতর এবং সংলগ্ন বাঙ্কার নিশানা করে সোমবার গভীর রাত থেকে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান!
ইজ়রায়েল সেনা জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার ইরান সরকার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নিরাপদ এবং অক্ষত রয়েছেন। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকার বিমান হামলা (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের। সেই সময়ই জখম হন তাঁর স্ত্রী খোজাস্তেহ বাঘেরজ়াদেহ। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার তাঁরও মৃত্যু হয়েছে।
খামেনেইয়ের পাশাপাশি শনিবার যৌথবাহিনীর হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজ়িজ় নাসিরজাদা, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের (ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিল) প্রধান আলি শামখানি, সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ সৈয়দ আব্দুলরহিম মৌসাভি এবং ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধান মহম্মদ পাকপুরের মতো শীর্ষস্থানীয় ইরানি আধিকারিকদের মৃত্যু হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তেল আভিভ প্রেসিডেন্ট পেজ়েকশিয়ানকে হত্যা করে কার্যত ইরানকে নেতৃত্বহীন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। ইজ়রায়েলি সেনা জানিয়েছে, তেহরানের যে সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে পেজ়েকশিয়ানের দফতর, সদ্যনিহত খামেনেইয়ের কার্যালয়ও সেখানেই ছিল।