Summer Tips

গরম পড়তেই অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ছে? অ্যান্টাসিড না খেয়েও হতে পারে মুশকিল আসান

ঘন ঘন গ্যাস-অম্বলের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস নানা ক্রনিক অসুখকে ডেকে আনে। তাই স্বাভাবিক উপায়ে হজম ক্ষমতা বাড়ানো ও হজম উপযোগী খাবার খাওয়াই প্রয়োজন। গরমের দিনে গ্যাস অম্বলের সমস্যা দূর হবে কোন উপায়ে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২৪
গরমের দিনে কী ভাবে বদহজম নিয়ন্ত্রণ করবেন?

গরমের দিনে কী ভাবে বদহজম নিয়ন্ত্রণ করবেন? ছবি: সংগৃহীত।

বাঙালি যেমন ভোজনরসিক, তেমনই পেটরোগাও বটে! অনুষ্ঠান বাড়িতে একটু বেশি খেয়ে ফেললে কিংবা তেল-মশলার পরিমাণ সামান্য বেশি হয়ে গেলেই পেটের গোলমাল শুরু হয়ে যায়। আর কথায় কথায় মুঠো মুঠো ওষুধ খাওয়ার বদভ্যাস তো আছেই। চিকিৎসকদের মতে, গ্যাস-অম্বলের সমস্যা আজকাল ঘরে ঘরে। গরমে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু খুব বেশি ওষুধ নির্ভর হয়ে পড়া মোটেই ভাল নয়। ঘন ঘন গ্যাস-অম্বলের ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস নানা ক্রনিক অসুখকে ডেকে আনে। তাই স্বাভাবিক উপায়ে হজম ক্ষমতা বাড়ানো ও হজম উপযোগী খাবার খাওয়াই প্রয়োজন। গরমের দিনে গ্যাস অম্বলের সমস্যা দূর হবে কোন উপায়ে?

Advertisement

১) কখনও কখনও কোনও সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধানটিই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে তা পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে। জল খেলে হজমও হয় ঠিকঠাক। গরমে কোনও ভাবেই শরীরে ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি হতে দিলে চলবে না। জলের পাশাপাশি, ডাবের জল, ঘোল, বেলের শরবতের মতো স্বাস্থ্যকর পানীয়ও রোজের ডায়েটে রাখতে হবে।

২) এই সময়ে খাওয়াদাওয়া করতে হবে বুঝেশুনে। প্রকৃতিগতভাবে ও সহজে হজমযোগ্য খাবার অন্ত্রকে শান্ত করতে পারে এবং অম্লতা কমাতে পারে। তাই গরমের ডায়েটে শসা, পুদিনা, তরমুজ, খরমুজ, চালকুমড়োর মতো ফল ও সব্জিগুলি বেশি করে রাখুন। অন্যদিকে, ভাজা, মশলাদার এবং অতিরিক্ত অম্ল জাতীয় খাবার গরমকালে অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই সময়ে বাড়িতে তৈরি হালকা-পাতলা খাবারই ভাল। শরীর চাঙ্গা রাখতে খেতে হবে গঁদ কাতিরা। জলে ভিজিয়ে পান করলে গরমের সময় শরীর চাঙ্গা থাকে।

৩) কী খাচ্ছেন শুধু সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কী ভাবে খাচ্ছেন সেটাও জরুরি। খাওয়ার সময়ের অনিয়ম অ্যাসিডিটির প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। দুই খাবারের মাঝে দীর্ঘ বিরতি অ্যাসিডিটির সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। কখনও কখনও সাধারণ কিছু অভ্যাসও অনেক পার্থক্য গড়ে দেয়। খাবার পর কয়েক মিনিটের জন্য বজ্রাসনে বসলে তা হজমে সহায়তা করে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও এ ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা পালন করে, কারণ অন্ত্র এবং মস্তিষ্ক একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

৪) অ্যাসিডিটির সবচেয়ে কার্যকরী সমাধানগুলির মধ্যে কয়েকটি বেশ সহজ। জিরা মেশানো জল খাওয়া, খাওয়ার পর মৌরি চিবোনো এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ার মতো কিছু নিয়ম মেনে চললে বদহজম কম হয়। খালি পেটে চা ও কফি খাওয়া কমিয়ে দিলেও উপকার পাওয়া যায়।

৫) একই সঙ্গে খাওয়া উচিত নয়, এমন বেশ কিছু খাবার আছে। যেমন মাংস খেয়েই দুধ বা দুগ্ধজাত কোনও খাবার, ভাতের পরেই ফল, ভাজাভুজি খেয়েই জল— ভুলেও খাবেন না। এ সব পর পর না খেয়ে একটু সময় রাখুন মাঝে। প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা পারবেন এড়িয়ে চলুন। প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ সব প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে হজমের সমস্যার পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্র তার কর্মক্ষমতা হারায়।

Advertisement
আরও পড়ুন