Fad Diets

১০ দিনে ১০ কেজি কমানো কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? বিপজ্জনক ডায়েট থেকে সাবধান!

নতুন বছরে অনেকেই ওজন কমানোর পণ করেছেন। কিন্তু প্রথম মাসের শেষে এক চুলও এগোয়নি সেই প্রকল্প। মরিয়া হয়ে কোনও ভুল পথে হাঁটছেন না তো?

Advertisement
সঙ্গীতা চট্টোপাধ্যায় বিসয়ী
শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:০৮
Nutritionist Sangita Chatterjee Bisoyi explains why you should not waste your time in fad diets this new year.

শরীরকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে একটি ‘ব্যালেন্স়ড ডায়েট’ অনুসরণ করা উচিত। ছবি: সংগৃহীত।

এখন আমাদের সব কিছুতেই দ্রুত ফল চাই। ওজন যতই হোক, ঝট করে ১০ কেজি কমিয়ে ফেলতে কে না চান? ধীরে ধীরে সুস্থ ডায়েট মেনে ওজন কমানোর ধৈর্য অনেকেরই নেই। আর তাই ইন্টারনেটে ঘোরা বিভিন্ন ‘ফ্যাড ডায়েট’ এবং ওজন কমানোর দ্রুততম সমাধানগুলির পেছনে ছুটি আমরা। যাই হোক, আসুন এই নতুন বছরে ‘স্বাস্থ্য সচেতনতা’ আমাদের রেজ়োলিউশন হোক। আমরা ক্ষণস্থায়ী ও দ্রুত সমাধানগুলিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে তার পরিবর্তে একটি সহজ এবং স্থায়ী সমাধানের রাস্তা অনুসরণ করার চেষ্টা করি।

Advertisement

এই সব ডায়েটগুলি দ্রুত ফলাফলের দাবি করে। এবং সহজে ওজন কমানোর প্রলোভনে আমরা পা-ও দিয়ে ফেলি। তবে এগুলি দীর্ঘ দিন কার্যকর হয় না। উল্টে স্বাস্থ্যের পক্ষে অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। এ ছাড়াও এই ফ্যাড ডায়েটগুলি খুব কম খাবারে সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণে অনেক খাবার বাদ পড়ে যায়। যা পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে, ‘ইটিং ডিজ়অর্ডার’ সৃষ্টি করে এবং শরীর ক্লান্ত বোধ করে। ফলে মানুষ এই ফ্যাড ডায়েটগুলি অনুসরণ করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন এবং বুঝতে পারেন যে, এগুলি একেবারেই টেকসই নয়।

আমাদের যা দরকার তা হল দ্রুত সমাধানের পরিবর্তে স্বাস্থ্যের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। ঝট করে ওজন কমানো নয়, সুস্থ থাকাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আসুন, আমরা সহজ এবং স্থায়ী সমাধানগুলির উপর জোর দিই। যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখবে।

Nutritionist Sangita Chatterjee Bisoyi explains why you should not waste your time in fad diets this new year.

ধীরে ধীরে সুস্থ ডায়েট মেনে ওজন কমানোর ধৈর্য অনেকেরই নেই। ছবি: সংগৃহীত।

শরীরকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে একটি ‘ব্যালেন্স়ড ডায়েট’ অনুসরণ করা উচিত যেখানে আপনি কোনও রকম খাবার বাদ না দিয়েই সঠিক পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন। অতিরিক্ত ক্যালোরির ঘাটতি বা ‘বিঞ্জ ইটিং’-এর পরিবর্তে, বুঝেশুনে খাওয়ার উপর জোর দেওয়া যাক। এটি কেবলমাত্র ওজন নিয়ন্ত্রণেই সাহায্য করে না বরং খাবারের সঙ্গেও একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

সুস্থ থাকতে শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবং শুধুমাত্র দু’-এক দিনের জন্য নয়, দৈনন্দিন জীবনে আমাদের নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত। যেমন হাঁটা, যে কোন ধরনের ওয়ার্কআউট বা আপনার পছন্দমতো নাচ, জ়ুম্বা, সাঁতার, সাইক্লিং— এই সবই আপনার শরীরের শক্তি এবং সহ্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

এ ছাড়াও, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া একটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত মানের ঘুম, এবং ইতিবাচক চিন্তাধারা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্তু গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, সুস্থতার যাত্রা একটি ম্যারাথন। কোনও স্প্রিন্ট নয়। সহজ ও স্থায়ী সমাধানগুলি গ্রহণ করলে আমরা সারা বছর সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারব।

(লেখক ইউকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন এবং পেশায় পুষ্টিবিদ।)

Advertisement
আরও পড়ুন