সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের মামলার শুনানি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কমিশনের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল তারা যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, সেই অনুযায়ী কাজ হবে। তাই আদালত অতিরিক্ত আর কোনও নির্দেশ দেয়নি। আপাতত আর কোনও নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করেছেন বিচারপতিরা।
সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের মামলার শুনানি শেষ হয়েছে।
কমিশনের তরফে আইনজীবী বলেন, ‘‘গণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারেরই আধিকারিক। তা ছাড়া, প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট গণনায় থাকবেন। তাই মামলায় যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের মামলায় তারা এখনই কোনও নির্দেশ দিতে রাজি নয়। কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। অতিরিক্ত কোনও নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই আপাতত।
তৃণমূলের আইনজীবী এর পরে যুক্তি দেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে থেকে এলোমেলো ভাবে বাছাই হওয়া উচিত ছিল। তাতে বিচারপতি নরসিংহ রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের পৃথক করে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের আলাদা হিসাবে দেখার মধ্যে আর একটি ভ্রান্তি রয়েছে। আসলে তাঁরা সকলে সরকারি কর্মচারীই।’’
বিচারপতি বলেন, ‘‘কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী হবেন। এতে কোনও নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না।’’ তৃণমূলের তরফে এর পর কপিল দাবি করেন, সার্কুলার মেনে কাজ করা হচ্ছে না। বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘যদি সার্কুলারে এমনটা বলা থাকত, তবুও আমরা তাতেও কোনও অন্যায় খুঁজতে পারতাম না। কারণ, নিয়মেই বলা আছে—কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারের কর্মীকে এই পদে নিয়োগ করা যেতে পারে।’’
বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন করেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যে আলোচনা করতে হবে সেটা কোথায় বলা রয়েছে?’’ জবাবে কপিল জানান, সাধারণত তাঁদের জানানো হয়ে থাকে এই সংক্রান্ত তথ্য। বিচারপতি বলেন, ‘‘কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারেরও হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারেরও হতে পারেন। সুতরাং, যখন এই বিকল্পটি নিয়মেই রয়েছে, তখন আমরা বলতে পারি না যে এই নোটিফিকেশনটি বিধি-বিরোধী।’’
কপিল আরও বলেন, ‘‘সার্কুলারেই বলা রয়েছে, একজন রাজ্য সরকারের কর্মী থাকা উচিত। কিন্তু তারা কোনও রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিকে নিয়োগ করছে না। সিইও বলেছেন, বিভিন্ন মহল থেকে গণনা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সরাসরি রাজ্য সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে। কিছু না কিছু তথ্য তো থাকা উচিত। প্রতিটি বুথে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেই তথ্য কোথায়? তারা এই বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। আর কেন আমাদের জানানো হল না যে, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিকে রাখা হবে?’’
কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের নিয়োগ প্রসঙ্গে কপিল বলেন, ‘‘গণনায় প্রতিটি টেবিলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের একজন কর্মী রয়েছেন, যাঁদের মাইক্রো অবজ়ার্ভার বলা হয়। তা হলে আবার কেন আরও একজন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী প্রয়োজন?’’
শনিবারে আদালতে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনের জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেন কপিল। তার পর তিনি বলেন, ‘‘আমাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নোটিস জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেটা জানতে পারি ২৯ তারিখে। কমিশন আশঙ্কা করছে—প্রত্যেকটি বুথে নাকি সমস্যা বা অশান্তি হতে পারে। কিন্তু এই ধারণা তারা কোথা থেকে পাচ্ছে? এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’’
তৃণমূলের মামলার শুনানি শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করছেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। নির্বাচন কমিশনের হয়ে রয়েছেন আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু।
বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ বসল। প্রথমে অন্য একটি মামলার শুনানি রয়েছে। তার পরে তৃণমূলের মামলা শুনবে আদালত।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও শুনানিতে জানান, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের নিয়োগ বৈধ। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কমিশনের সিদ্ধান্তে বেআইনি কিছু নেই। মামলাকারীর অভিযোগ প্রমাণহীন। যদি ভবিষ্যতে গণনায় কারচুপি প্রমাণ হয়, তবে ইলেকশন পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় তৃণমূল।
তৃণমূলের মূল অভিযোগ, ভোট গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা তাঁর সহকারী বা অন্যান্য গণনাকর্মী হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। তাদের আবেদন ছিল, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারে না। মাইক্রো অবজ়ার্ভার হিসাবে কেন্দ্রীয় কর্মচারী নিযুক্ত করায় আপত্তি নেই তৃণমূলের। তবে বাকি গণনাকর্মীরাও কেন কেন্দ্রীয় সরকারি সরকারি কর্মচারী হবেন? কেন সেখানে রাজ্য সরকারের কর্মীরা থাকবেন না? এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক আদালত। প্রত্যেক গণনার টেবিলে কমপক্ষে এক জন কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা সহকারী হিসাবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি হাই কোর্ট।
শনিবার সকালে বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে তৃণমূলের গণনা সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে।
ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। হাই কোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দিতেই রাজ্যের শাসকদল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।