Thalassemia

থ্যালাসেমিয়া নির্ণয়ে স্বল্পমূল্যের পরীক্ষাকীট ‘ত্রিনয়ন’, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অধ্যাপক অনুপম বসুর নেতৃত্বে তৈরি প্রযুক্তির গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনস্থ একটি সংস্থা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০১:৪১

—প্রতীকী চিত্র।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য। আবিষ্কার করা হয়েছে স্বল্পমূল্যের পরীক্ষাকিট ‘ত্রিনয়ন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আবিষ্কৃত এই পরীক্ষাকিটের মাধ্যমে উন্নত পরীক্ষাগারের জটিল যন্ত্রপাতি ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের থ্যালাসেমিয়া বাহক চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তি পেটেন্টের অনুমোদনও পেয়েছে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অধ্যাপক অনুপম বসুর নেতৃত্বে তৈরি এই প্রযুক্তির গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনস্থ একটি সংস্থা। গবেষকদের দাবি, অল্প পরিমাণ রক্তের নমুনা ব্যবহার করে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই পরীক্ষার ফল জানা যাবে। ভবিষ্যতে প্রতিটি পরীক্ষার খরচ ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

অনুপম বসু।

অনুপম বসু। —নিজস্ব চিত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় জনস্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে থ্যালাসেমিয়া অন্যতম। এই রোগ প্রতিরোধে বাহক শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয়ের জন্য উন্নত রক্ত বিশ্লেষণ পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হয়। যার খরচ হতে পারে কয়েকশো টাকা পর্যন্ত। ফলে অনেক মানুষের কাছেই এই পরীক্ষা সহজলভ্য নয়।

গবেষকদের দাবি, ‘ত্রিনয়ন’-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি শুধু বিটা-থ্যালাসেমিয়া নয়, আলফা-থ্যালাসেমিয়া, হিমোগ্লোবিন বাহক এবং সিকল সেল বাহক অবস্থা-সহ বিভিন্ন হিমোগ্লোবিনজনিত সমস্যাও শনাক্ত করতে সক্ষম। পরীক্ষার ফল খালি চোখেই দেখা যাবে। পাশাপাশি মোবাইলভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে ফলাফল বিশ্লেষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলে ছিলেন প্রশান্ত কুমার চৌধুরী, তমঘ্ন চৌধুরী, উপাসনা ভট্টাচার্য, দেবাশিস পাল, নিবেদিতা মিত্র, সুখেন্দু সাধুখাঁ, দীপঙ্কর সাহা ও অধ্যাপক পবিত্র চক্রবর্তী। গবেষকদের দাবি, ইতিমধ্যেই পাঁচশোটিরও বেশি নমুনার উপরে সফল ভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এখন প্রযুক্তির বাণিজ্যিক উৎপাদন, বৃহত্তর প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের দিকে এগোতে চাইছেন গবেষকেরা। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে ‘ত্রিনয়ন’ শুধুমাত্র একটি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি হিসেবেই নয়, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী হাতিয়ার হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Advertisement
আরও পড়ুন