PM Narendra Modi advocates for Early Dinner

কৃষকদের মতো সন্ধ্যার আগেই খেয়ে নিন, স্থূলতা কমাতে আর কী পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

স্থূলতা কমানোর উপায় নিয়ে আগেও নানা কথা বলেছেন তিনি। দেশবাসীকে শিখিয়ে দিলেন স্থূলত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়। বললেন, কী ভাবে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় হৃদ্‌রোগ, ডায়াবিটিস, উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা থেকে।

Advertisement
আনন্দবাজার অনলাইন ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:১৮
PM Narendra Modi advises for an early dinner before 7 PM to stay healthy

শরীর সুস্থ রাখার দু’টি টোটকা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।

রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে সন্ধ্যার আগেই। আর ঘুমোতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। ঠিক যেমন একজন কৃষক তাঁর রোজের অভ্যাসে করে থাকেন। ওজন কমিয়ে সুস্থ থাকতে এমনই পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্থূলতা কমানোর উপায় নিয়ে আগেও নানা কথা বলেছেন তিনি। দেশবাসীকে শিখিয়ে দিলেন স্থূলত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়। বললেন, কী ভাবে নিষ্কৃতি পাওয়া যায় হৃদ্‌রোগ, ডায়াবিটিস, উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা থেকে।

Advertisement

‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানের অষ্টম পর্বে পড়ুয়াদের সঙ্গে মত বিনিময় করতে গিয়ে মোদী পুষ্টিতত্ত্ব নিয়ে নানা কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, ওজন যদি কমাতে হয় ও শরীর সুস্থ রাখতে হয়, তা হলে সন্ধ্যা ৭টার আগেই রাতের খাওয়াদাওয়া সেরে নিতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বললেন, “একজন চাষি সন্ধ্যা নামার আগেই রাতের খাওয়া সেরে নেন। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যেই তাঁদের খাওয়াদাওয়া হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে খুব ভোরে ওঠেন। এই জন্যই তাঁরা এত কর্মঠ। তাঁদের স্বাস্থ্যও ভাল এবং জটিল অসুখবিসুখেও ভোগেন না চট করে।”

স্বাস্থ্যবিদেরা দেশের জনগণের সার্বিক ভাল থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন মোদী সুস্থ থাকার দু’টি টোটকা জানালেন—এক, সন্ধ্যা ৭টার আগেই খাওয়া এবং দুই, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাওয়া। এতেই পরিপাক প্রক্রিয়া সঠিক নিয়মে চলবে এবং মেদও জমতে পারবে না শরীরে।

তথ্যে কোনও ভুল নেই। ২০২৩ সালে ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন’ জার্নালে এই বিষয়টি নিয়েই একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। সেখানে গবেষকেরা জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যা ৭টার আগে যাঁরা রাতের খাওয়া সেরে নেন, তাঁদের আয়ু ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, তাড়াতাড়ি খেলে এবং হালকা খাবার খেলে ঘুমও ভাল হয়। গবেষকেরা বহু মানুষের উপরে সমীক্ষা চালিয়ে তার ফলাফলও ব্যক্ত করেন। বলা হয়, পুষ্টির সঙ্গে ঘুমের সরাসরি যোগসূত্র আছে। হজম যদি ভাল হয় এবং শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান পায়, তা হলে ঘুমের কোনও সমস্যাই হবে না। হরমোনের ভারসাম্যও ঠিক থাকবে এবং কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রিত হবে। ফলে হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমবে।

দেশে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে প্রথমেই আছে স্থূলতা। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল অবধি সমীক্ষার ফল অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মহিলা ও ১২ শতাংশ পুরুষ স্থূলত্বের শিকার। ২০২২ সালে দেখা গিয়েছে, স্থূলত্বের হার মহিলাদের মধ্যে আরও ৯ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে আর পুরুষদের মধ্যে বেড়েছে ৫ শতাংশ। ‘দ্য ল্যানসেট’-এর সমীক্ষা বলছে, দেশের শহরাঞ্চলে স্থূলত্বের হার ৭০ শতাংশের বেশি, যা উদ্বেগজনক।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ধরেই চিকিৎসক মেঘরাজ ইঙ্গল জানিয়েছেন, সন্ধ্যার আগে রাতের খাওয়া সারতে হলে হালকা খাবারই খেতে হবে। কার্বোহাইড্রেট না খেলেই ভাল, অল্প প্রোটিন রাখতে হবে। সব্জি দিয়ে স্যুপ, একটা রুটি খেলে ভাল। রাতে জাঙ্ক খাবার বা ভাজাভুজি একেবারেই খাওয়া যাবে না। ঘুমোনোর আগে চা, কফি বা মিষ্টি খেলেই কোলেস্টেরল বাড়বে। যদি ৭টায় খাবার খাওয়ার পরে রাতে খিদে পায়, তা হলে গ্রিন টি বা একমুঠো ড্রাই ফ্রুট্‌স খেতে পারেন। তবে পরিমিতই খেতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতি দিন অন্তত ৩০ মিনিট করে শরীরচর্চা জরুরি। হাঁটাহাঁটি, দৌড়নো, জগিং, সাঁতার অথবা যোগব্যায়াম করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

Advertisement
আরও পড়ুন