Thepla vs Paratha

দেখতে পরোটার মতো হলেও নাম থেপলা, গুজরাতের জনপ্রিয় খাবারটি প্রাতরাশে জুড়বেন কেন

জলখাবারে পরোটা খান। প্রাতরাশে পরোটার বদলে থেপলা রাখলে কী হবে? কী দিয়ে তৈরি হয় খাবারটি?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ১৯:০৪
Reasons Why You Should Add Gujarati Thepla to Your Morning Routine

পরোটা না থেপলা, জলখাবারে ভাল কোনটি? ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্য ভেদে পরোটা তৈরির উপকরণ, স্বাদে পার্থক্য থাকতে পারে। তবে পরোটা খাওয়ার চল ভারতের উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই। উত্তর ভারতে পরোটা গোলাকার হলেও, বঙ্গে পরোটা হয় তিনকোনাও। আবার দেখতে পরোটার মতো হলেও, মেথি দিয়ে তৈরি থেপলা জনপ্রিয় গুজরাতে। প্রাতরাশের জন্য খাবার বাছতে হলে পরোটা বেছে নেবেন, না কি থেপলা?

Advertisement

ওট্‌স, ডালিয়া, কিনোয়া খাওয়া স্বাস্থ্যসচেতন মানুষজনের খাদ্যতালিকায় পরোটা তেমন স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত না হলেও ভারতে প্রাতরাশে পরোটা খাওয়ার চল বেশ পুরনো। তা ছাড়া, পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন প্রক্রিয়াজাত খাবারের চেয়ে পরোটা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হতে পারে, যদি তা কিছু শর্ত মেনে বানানো হয়। তেমনই একটি খাবার থেপলা।

আটা, বেসন, টক দই, টাটকা মেথিপাতা এবং ভারতীয় হেঁশেলের রকমারি মশলা যেমন জিরে, ধনে ব্যবহার করে তৈরি করা হয় থেপলা। জিনিসটি হয় পরোটার মতোই। প্রথমেই আটা, বেসন, নুন, মেথিপাতা মিশিয়ে নিতে হয়। টক দই দিয়ে তা মাখা হয়। আটা মাখার সময় লঙ্কার গুঁড়ো, মশলা যোগ করা হয়। প্রথমে সেঁকে এবং তার পরে সামান্য তেল দিয়ে তা ভাজা হয়।

· একটি মাঝারি আকৃতির থেপলায় মোটামুটি ১২০ কিলোক্যালোরির মতো ক্যালোরি মেলে। গমের আটা বা জোয়ারের আটায় যথেষ্ট ফাইবার থাকে। আটার কমপ্লেক্সে কার্বোহাইড্রেট চট করে পরিপাক হয় না বলে, সহজে রক্তে শর্করাও বেড়ে যায় না। তা ছাড়া, মেথিতেও প্রচুর ফাইবার মেলে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

· মেথিশাকে আয়রন ও ভিটামিন মেলে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, দিনে ২৫ গ্রাম থেকে ১০০ গ্রামের মতো মেথিশাক খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফোলিক অ্যাসিড, রাইবোফ্ল্যাভিন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ়ের গুণও এতে বর্তমান। সঙ্গে ভিটামিন এ, বি৬, সি, কে-ও রয়েছে। মেথিশাক ওজন নিয়ন্ত্রণে, রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

· থেপলায় ব্যবহার হওয়া জিরে, ধনেরও নিজস্ব গুণ রয়েছে। জিরে হজমে সহায়ক, বদহজমের সমস্যা কমায়।

· থেপলা তৈরি হয় টক দই দিয়ে মেখে। টক দই প্রোবায়োটিকের জোগানদাতা। ফলে পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

· সকালের খাবারে যতটা সম্ভব তেল কম খাওয়াই ভাল। থেপলা খুব কম তেলে তৈরি করা যায়।

পরোটা

সকালের জলখাবারে পরোটাও খাওয়া হয়। বাংলায় ময়দা খাওয়ার চল থাকলেও তা স্বাস্থ্যকর নয়। তবে যদি প্রোটিনের পুর ভরা পরোটা, অল্প তেলে সেঁকে খাওয়া যায়, তাতে সমস্যা নেই। গমের আটা বা জোয়ার-বাজরার আটা দিয়ে তৈরি পরোটা স্বাস্থ্যকর। পরোটার ভিতরে পনিরের পুর দেওয়া যেতে পারে। ছাতুর পুরেও মিলবে প্রোটিন।

পরোটার বদলে থেপলা কেন বাছবেন?

সকালে হালকা কিছু খেতে চাইলে থেপলাই ভাল। থেপলা খুব পাতলা এবং নরম হয়। পরোটাও খাওয়া যায়। তবে পুর ভরা পরোটা বেশ ভারী খাবার। থেপলার সঙ্গে পনির বা রকমারি সব্জির তরকারি কিংবা রায়তাও খাওয়া যায়। পরোটাও রায়তা কিংবা সব্জি দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। পরোটা গরম খেতে ভাল লাগে। তবে থেপলা ঠান্ডা অবস্থাতেও নরম থাকে বলে খেতে অসুবিধা হয় না। আগের রাতে থেপলা বানিয়ে রাখলেও পরের দিন জলখাবারে খাওয়া যায়।

নরম থেপলা তৈরির কৌশল

থেপলার আটা মাখার সময় একটু জল ব্যবহার করতে হবে। আটা মাখতে হবে একটু নরম করে। তা হলে কম তেলেই থেপলা নরম থাকবে।

Advertisement
আরও পড়ুন