ভাত না রুটি, কোনটি স্বাস্থ্যকর ডায়াবিটিসে? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
ডায়াবিটিসের রোগীদের ধারণা রয়েছে, ভাতের থেকে রুটি বেশি স্বাস্থ্যকর তাঁদের জন্য। তাই অনেক বাড়িতে সুগারের রোগীদের রাতে রুটি দেওয়া হয়, কেউ আবার ভাত সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়ে একাধিক রুটির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই ধারণাকে নস্যাৎ করে দিলেন মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র। তাঁর কথায়, ‘‘দু’টিতেই গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স বেশি। ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে। ফলে পার্থক্য খুব একটা নেই। সাধারণ চালের ভাতের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স যেমন ৬০-৭০, তেমনই আটার ক্ষেত্রেও সেই সংখ্যাটি হল ৬০-৬৫।’’
কোন ধরনের ভাত খেলে ভাল? ছবি: সংগৃহীত
অনেকেই তিন বেলা ভাত-রুটি মিশিয়ে খান, তাতে কিন্তু সুগার খুবই দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তবে চিকিৎসক জানালেন, কয়েকটি ছোটখাটো বদল আনলে ভাত আর রুটি নিয়ে ভয় পাওয়ার দরকার নেই সুগারের রোগীদের।
সে ক্ষেত্রে কী ভাবে ভাত এবং রুটি খাওয়া যায়?
১. ব্রাউন রাইস খাওয়ার চেষ্টা করুন। এর গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ৫০-এর কাছাকাছি। সেটি কিন্তু রুটির থেকে ভাল।
২. খাপলি আটা দিয়ে রুটি বানিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। তাঁর বক্তব্য, খাপলি আটা একটি প্রাচীন শস্য, যা সাধারণ আধুনিক গমের চেয়ে আলাদা। এতে গ্লুটেন কম থাকে, ফাইবার বেশি থাকে। এমনকি গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম থাকে তাতে, প্রায় ৪৫-৫০।
কেমন রুটি খাওয়া উচিত? ছবি: সংগৃহীত
৩. ব্রাউন রাইস খেতে না চাইলে বা রুটিপ্রেমী হলে মাল্টিগ্রেন আটা দিয়ে রুটি বানাতে হবে। এতে অনেক ধরনের শস্য মেশানো থাকে, জোয়ার, বাজরা, রাগি, মিলেট, বার্লি ইত্যাদি। এই সমস্ত শস্যের গুণ শরীরে পৌঁছোবে। তাঁর কথায়, ‘‘বাজারে যে মাল্টিগ্রেন আটা পাওয়া যায়, সেগুলি অবশ্যই সাধারণ গমের আটার থেকে ভাল। কিন্তু সেগুলিতে আদৌ কোনটা কত পরিমাণ থাকে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’’ তবে বাড়িতে নিজে বানিয়ে নেওয়া যায় এমন আটা। চিকিৎসক জানালেন, খাপলি আটা না পেলে সাধারণ গমের সঙ্গে কয়েকটি শস্য মেশাতে হবে।
বাড়িতে স্বাস্থ্যকর আটা বানানোর পদ্ধতি
একমুঠো আটায় ১ টেবিল চামচ ইসবগুল, ১ টেবিল চামচ বেসন, সমান পরিমাণে রাগি আটা বা বাজরার আটা মিশিয়ে দিন। এই সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে আটা মেখে রুটি বানাতে হবে। সেই রুটির গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স তুলনায় অনেক কম হবে। ফলে সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি খানিকটা কমবে। তবে আটার গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স কমাতে তার সঙ্গে শুধু সজনেপাতার গুঁড়ো বা মেথিগুঁড়ো মিশিয়ে দিলেও হবে।
কিন্তু সাধারণ সাদা চাল ও আটার মধ্যে এমনিতে কোনও পার্থক্য নেই বলেই জানালেন চিকিৎসক। অন্তত সুগারের রোগীদের ক্ষেত্রে এই দু’টির ক্ষতি একই।