Ear Issues and Vertigo

যখন তখন মাথাঘোরা, হাঁটাচলার সময়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, দিনভর বমি ভাবের কারণ কানের রোগ নয় তো?

অন্তঃকর্ণের সঙ্গে মস্তিষ্কের গভীর যোগাযোগ রয়েছে। সেখানকার কোষগুলির যদি ক্ষতি হয়, তা থেকে ভার্টিগো হতে পারে, আবার স্নায়বিক রোগও দেখা দিতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১২:২৯
Why one should have a balance problem related to your inner ear

কানের কোন কোন সমস্যার কারণে তীব্র মাথাব্যথা, মাথাঘোরার সমস্যা হয়? ছবি: ফ্রিপিক।

ঘুম থেকে উঠেই মাথা ঘোরা, হাঁটাচলার সময়ে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার সমস্যা সাধারণ নয়। অনেকেই ভাবেন, ভার্টিগোর কারণে বা অত্যধিক ক্লান্তির কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটা হয়তো কেবল ক্লান্তি বা ভার্টিগোর নয়। নেপথ্যে থাকতে পারে কানের কোনও রোগ। অন্তঃকর্ণের সঙ্গে মস্তিষ্কের গভীর যোগাযোগ রয়েছে। সেখানকার কোষগুলির যদি ক্ষতি হয়, তা থেকে ভার্টিগো হতে পারে, আবার স্নায়বিক রোগও দেখা দিতে পারে।

Advertisement

কানের মূলত দু’টি কাজ। শোনা এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা। ককলিয়া (শুনতে সাহায্য করে যে স্নায়ু) এবং ল্যাবিরিন্থ (ভারসাম্য রক্ষা করে যে স্নায়ু) এই দুটিতে সমস্যা হলে তখন শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে থাকে এবং শরীরের ভারসাম্যও হারিয়ে যেতে থাকে। অনেক সময়ে দেখা যায়, শ্রবণশক্তিতে তেমন তোনও সমস্যা নেই, অর্থাৎ, রোগী কানে শুনতে ঠিকই পাচ্ছেন, কিন্তু প্রবল ভার্টিগোর সমস্যায় ভুগছেন। উঠতে বা বসতে গেলেই মাথাঘোরা, সারা দিন বমি ভাব, হাঁটাচলার সময়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া, এ সবই ল্যাবিরিন্থ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হতে পারে। তখন কানের ভিতরে ক্যালশিয়ামের ছোট ছোট ক্রিস্টাল জমা হতে থাকে, যা স্নায়ুর সঙ্কেত আদানপ্রদানের রাস্তাটা বন্ধ করে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলে ‘বিনাইন প্যারোক্সিসমাল পজ়িশনাল ভার্টিগো’ (বিপিপিভি)। সাধারণত বয়স্কদের এই সমস্যা বেশি হয়। তবে কানে আঘাত পেলে বা সংক্রমণ হলে, তা থেকেও হতে পারে। নিয়মিত ইয়ারবাড ব্যবহার করা বা ইয়ারফোনের অত্যধিক ব্যবহারের কারণে অন্তঃকর্ণের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিপিপিভি হতে পার। ইদানীং কমবয়সিদেরই যা বেশি হচ্ছে।

আরও একটি কারণে কানের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাধারণত কোনও ভাইরাসের সংক্রমণ হলে কানের ভারসাম্য রাখার স্নায়ুটি ফুলে যায়। সেখানে এমন প্রদাহ হতে থাকে যে, মস্তিষ্কে ভুল সঙ্কেত যায়। এর থেকে তীব্র মাথা ঘোরা, ভারসাম্যহীনতা, বমি বমি ভাব ও মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

কানের কোনও সমস্যাই অবহেলা করার নয়। শুনতে সমস্যা না হলেও যদি মাথাঘোরার সমস্যা বাড়তে থাকে, ওষুধেও যদি ভার্টিগোর নিরাময় না হয়, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। না হলে মেনিনজাইটিস, এনসেফেলাইটিস বা ব্রেন অ্যাবসেসের মতো গুরুতর অবস্থা তৈরি হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন