Ukraine Drone Attack in Moscow

‘কিভ জ্বললে জ্বলবে মস্কোও’! দেশীয় প্রযুক্তির সস্তার ‘আত্মঘাতী’ সিচেন ড্রোনে রাশিয়ায় জোরালো হামলার পর হুঙ্কার জ়েলেনস্কির

সম্প্রতি হামলার কৌশল বদলাতে শুরু করেছে ইউক্রেন। কোনও বড় সামরিক অস্ত্র প্রয়োগ নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সস্তার ড্রোন দিয়ে হামলার উপর জোর দিচ্ছে কিভ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৩:৪১
মস্কোয় তৈল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা। ছবি: রয়টার্স।

মস্কোয় তৈল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা। ছবি: রয়টার্স।

ইউক্রেন যদি জ্বলে, রাশিয়াও জ্বলবে। বৃহস্পতিবার মস্কোয় জোরালো হামলার পর হুঁশিয়ারি দিলেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। ড্রোন দিয়ে একের পর এক নিশানা বানানো হয়েছে রুশ তৈলশোধনাগার-সহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গা। গত চার বছরে মস্কোয় এটিকে সবচেয়ে বড় হামলা বলে দাবি করা হচ্ছে। ব্যস্ততম শহরের বেশ খানিকটা অংশ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় কারও প্রাণহানি হয়নি। রুশ প্রতিরক্ষা দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রায় এক হাজার ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে মস্কোয়।

Advertisement

সম্প্রতি হামলার কৌশল বদলাতে শুরু করেছে ইউক্রেন। কোনও বড় সামরিক অস্ত্র প্রয়োগ নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সস্তার ড্রোন দিয়ে হামলার উপর জোর দিচ্ছে কিভ। আর সেই কৌশলেই বৃহস্পতিবার ঝাঁকে ঝাঁকে সস্তার ড্রোন পাঠিয়ে হামলা চালিয়েছে তারা। তবে রাশিয়ার দাবি, শুধু ড্রোন হামলাই নয়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোয় ড্রোন হামলায় ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। মঙ্গলবার থেকেই ধাপে ধাপে হামলা শুরু করে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার সেই হামলা আরও জোরালো করা হয়। মস্কোয় তৈলশোধনাগার ছাড়াও কয়েকটি শপিং মল, বাজার এবং বসতি এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

ইউক্রেনের সিচেন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত।

ইউক্রেনের সিচেন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত।

বেশ কয়েকটি সাংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ায় বৃহস্পতিবার যে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, সেই হামলায় সস্তার ড্রোন সিচেন-কে কাজে লাগানো হয়েছে। যে তৈলশোধনাগারে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে সেটি মস্কোর ৪০ শতাংশ পেট্রল এবং অর্ধেকের বেশি ডিজেলের চাহিদা পূরণ করে। রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘চোখে ধুলো’ দিয়ে সরাসরি ওই তৈল শোধনাগারকে নিশানা করে সিচেন ড্রোন। বৃহস্পতিবারের হামলায় একসঙ্গে অনেক বেশি ড্রোনকে কাজে লাগিয়েছে ইউক্রেন। এ বছরের এপ্রিলে এই ড্রোন মোতায়েন করে ইউক্রেন। তার পর এই প্রথম সামরিক অভিযানে ব্যাপক ভাবে সিচেন ড্রোনের ব্যবহার করল তারা।

১৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে এই ড্রোন। গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার। ৪০ কোজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই ড্রোন। ১৫০০ মিটার উচ্চতা দিয়ে উড়তে পারে। এই ড্রোনের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হল ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার রেসিলিয়েন্স। রাশিয়ার গেরান এবং ইরানের শাহিদ ড্রোনের মতোই এই সেচান ড্রোন। গেরান এবং শাহিদ ড্রোনের অনুকরণেই তৈরি সেচান ড্রোন।

Advertisement
আরও পড়ুন