জাঙ্ক ফুড খেলে কোনগুলি বাদ দিয়ে খাবেন? ছবি: ফ্রিপিক।
জাঙ্ক ফুড খেতে ভালবাসেন কমবেশি সকলেই। কেবল শরীরের কথা ভেবে এড়িয়ে যান। সপ্তাহে এক-আধদিন বা মাসে কয়েকটা দিন পছন্দের পিৎজ়া বা বার্গার কিনে খাওয়া হয়েই যায়। তাতে অবশ্য তেমন দোষ নেই। তবে সমস্যাটা অন্য জায়গায়। সব জাঙ্ক ফুডই যে বিষ তা নয়। কী খাচ্ছেন ও কোথা থেকে কিনে খাচ্ছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা জাঙ্ক ফুড মাঝেমধ্যে খেতে পারেন, তাতে ক্ষতি নেই। তবে কিছু খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। খাবারের মধ্যেও ভালমন্দ আছে। জাঙ্ক ফুডের তালিকায় পড়ে এমন কিছু খাবার শরীরের ক্ষতি বেশি করে। অথচ সেগুলিই পছন্দ অল্পবয়সিদের। সবচেয়ে বেশি পছন্দের কিছু খাবারই হৃদ্যন্ত্রের গতি থামিয়ে দিতে পারে বলেই দাবি গবেষকদের।
‘আলট্রা-প্রসেসড ফুড’-এর মধ্যে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলি হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে ৬৭ শতাংশ। তার মধ্যে প্রথমেই পড়ে সসেজ ও বেকন। প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে তৈরি এই খাবার শুধু হার্টের ক্ষতি করে তা নয়, ক্যানসারের আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে, পায়ুপথ ও খাদ্যনালিতে ক্যানসারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। অর্থাৎ, রোজ যদি বেকনের দু'টি টুকরোই খান কেউ, তা হলেও তাঁর ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাবে। শরীরে ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যাবে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে থাকবে। ডায়াবিটিসের লক্ষণ দেখা দেবে।
নাগেট্স, সসেজ, বেকন, সালামি, বার্গার এই খাবারগুলির প্রতিটিতেই প্রক্রিয়াজাত মাংস ব্যবহার করা হয়। সেগুলি যে ভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয় সে প্রক্রিয়াও ক্ষতিকর। তা ছাড়া মাংস দীর্ঘ সময় তাজা রাখতে যা যা মেশানো হয়, সেগুলি কার্সিনোজেনিক (ক্যানসার সৃষ্টিকারী)। এগুলিতে উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম ও নাইট্রেট থাকে যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় ও ধমনীতে প্রদাহ তৈরি করে। ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
প্যাকেটজাত কুকি, ডোনাট এবং পেস্ট্রি, যাতে প্রক্রিয়াজাত চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলিও কম ক্ষতিকারক নয়। এর পাশাপাশি রয়েছে, চিনি ও সোডা মেশানো কার্বোনেটেড পানীয়, বাজারচলতি কিছু এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করে রাখা প্যাকেটজাত ফলের রস ও লস্যি। এগুলি খেলেও রক্তে খারাপ কোলেস্টেরড ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়বে যা হৃদ্রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে যদি টাটকা ও তাজা খাবার খাওয়া যায়, তা হলে অসুখবিসুখের ঝুঁকি কমে। যেমন সসেজ বা বেকনের বিকল্প হতে পারে ডিম, তাজা দুধ। আলট্রা প্রসেস্ড বা প্রক্রিয়াজাত হলেও যেগুলির উৎস উদ্ভিদ, সেই সব খাবারের ক্ষেত্রে মারাত্মক কোনও রোগে আক্রান্ত হওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন গবেষকেরা। যেমন, পাউরুটি বা দানাশস্য প্রক্রিয়াজাত হওয়া সত্ত্বেও তা ক্ষতিকর নয়। কারণ এতে রাসায়নিক নয়, থাকে ফাইবার, যা শরীরের জন্য উপকারী। অফিস হোক বা বাড়িতে, হাতের কাছে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস, যেমন ড্রাইফ্রুট, মাখানা ইত্যাদি রাখাই ভাল। টাটকা ফল দিয়ে স্যালাড বানিয়ে রাখলে আর প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার রুচি থাকবে না।