এই ঠান্ডায় শুধু বয়স্করাই নন, প্রায় সব বয়সের মানুষেরাই একটু জড়সড় হয়ে পড়েন, তাঁদের শারীরিক সচলতা কমে যায়। ঠান্ডা বাড়লে তাই জয়েন্ট পেন থেকে শুরু করে প্রেশার ওঠানামা করা, পায়ের শিরায় টান ধরা... নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এর থেকে রেহাই পাওয়ার প্রধান যে দু’টি উপায় চিকিৎসকেরা বলেন, তার একটি হল শরীর গরম রাখা। দ্বিতীয়টি, শরীরকে ফিট ও সচল রাখা। শারীরিক কসরত খানিক বাড়ানো যায় এ সময়ে, কিছু প্রাথমিক রুটিন অনুসরণ করলে। বয়সভেদে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করা যেতে পারে—
শরীরের জবুথবু ভাব কাটানোর জন্য কমবয়সি আর বয়স্কদের শারীরচর্চা এক রকম হবে না। সব ধরনের শারীরচর্চার উদ্দেশ্যও এক নয়। শরীর ফিট রাখার ব্যায়াম, পেশিগঠনের ব্যায়াম, স্থূলতা কমানোর ব্যায়াম... আলাদা উদ্দেশ্যে আলাদা ধরনের এক্সারসাইজ় করা হয়ে থাকে। প্রয়োজনে পেশাদারের পরামর্শ নিন। ওজন নিয়ে ট্রেনিং করলে প্রথমেই নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী ওজন বাছুন। কমবয়সিদের জন্য সাঁতার কিংবা যে কোনও ধরনের স্পোর্টস শ্রেষ্ঠ বিকল্প। মাঝবয়সিদের জন্য ব্রিস্ক ওয়াকিং, জগিং কার্যকর। আবার যাঁদের বয়স হয়েছে, হাঁটু বা কোমরের স্থায়ী সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য চেয়ারে বসেই কিছু ব্যায়াম রয়েছে। ফিটনেস বিশেষজ্ঞ গুরুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কয়েকটি এক্সারসাইজ়ের সন্ধান দিলেন,
বয়স্কদের পক্ষে শারীরচর্চা অনেক সময়েই অসম্ভব হয়ে পড়ে, শরীরে স্থবিরতা এসে যায়। তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণ যোগাভ্যাস, প্রাণায়াম কিংবা রোজ অল্প করে হাঁটার অভ্যাস ফলদায়ক। শীতের সকালে ধোঁয়াশার কারণে হাঁটতে যেতে না পারলে বিকেলেও হাঁটতে পারেন। যাঁরা অস্ত্রোপচার বা অন্য কোনও কারণে জোরে হাঁটতে বা দৌড়তে পারেন না, তাঁরা চেয়ারে বসে ব্যায়ামগুলি করতে পারেন। সর্বোপরি স্বাস্থ্যচর্চার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও। শীতের সব রকমের আনাজ ও ফল খাদ্যতালিকায় রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। প্রয়োজনে জল ঈষৎ গরম করে পান করার অভ্যেস করতে পারেন এ সময়ে। বয়স্করা ঘরে হিটার চালিয়ে, উষ্ণ পানীয় ও গরম সেঁকের মাধ্যমে নিজেদের গরম রাখুন। এই সহজ বিষয়গুলি মেনে চললেই শীত আপনাকে কাবু করতে পারবে না সহজে।