কৃত্রিম মেধা বা এআইকে (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) কেন্দ্র করে মার্কিন-চিন ‘টেক ওয়ার’, যার সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ল দুই দেশের শেয়ার বাজারে। এ ব্যাপারে লগ্নিকারীদের মনোভাব অবশ্য চিন্তা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ, ওয়াল স্ট্রিট ছেড়ে তাঁদের একাংশকে ঢেলে বিনিয়োগ করতে দেখা যাচ্ছে বেজিঙের বাজারে। আমেরিকার টেক জায়ান্টগুলির পরিবর্তে ড্রাগনভূমির ‘ডিপসিক’-এর মতো সংস্থার উপর বাজি ধরছেন তাঁরা। কেন এই প্রবণতা? নতুন বছরে এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে লেগে পড়েছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টেক জায়ান্টগুলির থেকে লগ্নিকারীদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল বুদবুদ। এআই প্রযুক্তি নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হওয়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সংস্থাগুলির শেয়ারের দর, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটাই বেশি। ফলে যে কোনও মুহূর্তে স্টকের ওই বুদবুদ ফাটবে বলে একরকম নিশ্চিত আর্থিক বিশ্লেষকেরা। এর আঁচ পেতেই লোকসান এড়াতে বিনিয়োগ সরাচ্ছেন লগ্নিকারীরা। সে ক্ষেত্রে তাঁদের স্বাভাবিক পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিন।
বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, মার্কিন শেয়ার বাজারের এআই লগ্নিকারীদের মধ্যে বিনিয়োগে বৈচিত্র আনার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হল কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে যেতে চিনের মরিয়া চেষ্টা। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই চিপ নির্মাণকারী একগুচ্ছ সংস্থার একটি তালিকা তৈরি করেছে বেজিং। তাদের এ বিষয়ে গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের জন্য মোটা অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে ড্রাগনভূমির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সরকার। ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির স্টকের সূচকে যে ‘ষাঁড়ের দৌড়’ দেখতে পাওয়া যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
এ ব্যাপারে উদাহরণ হিসাবে মুর থ্রেডস এবং মেটাএক্সের কথা বলা যেতে পারে। গত বছরের ডিসেম্বরে চিনের শেয়ার বাজারে পথচলা শুরু করে এই দুই চিপ নির্মাণকারী সংস্থা। তার মধ্যেই মুর থ্রেডসের সঙ্গে অনেকেই জনপ্রিয় মার্কিন টেক জায়ান্ট এনভিডিয়ার তুলনা টানা শুরু করে দিয়েছেন। ফলে বেজিঙের ঘরোয়া বাজারে ‘চিনের এনভিডিয়া’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রোকারেজ ফার্মগুলি জানিয়েছে, কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে ক্রমশ প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে ফেলছে চিন। এই বিষয়টা মোটেই লগ্নিকারীদের দৃষ্টি এড়ায়নি। সেই কারণে বেজিঙের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খোলে আমেরিকার অ্যাসেট-ম্যানেজার সংস্থা ‘রাফার’। তাঁদের কথায়, ‘‘ওয়াশিংটনের টেক-জায়ান্টগুলির মধ্যে যারা ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন নামে পরিচিত, তাদের স্টকের সম্ভাব্য উচ্চসীমা কমানো হয়েছে। কারণ প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমায় বেজিঙের সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে তারা।’’
এ প্রসঙ্গে রাফারের বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ জেমা কেয়ার্নস-স্মিথ বলেছেন, ‘‘কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিতে এখনও বিশ্বের প্রথম স্থান ধরে রেখেছে আমেরিকা। কিন্তু যে ভাবে চিন উল্কার গতিতে উঠে আসছে, তাতে ওই আসন কত দিন টিকবে তা নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে। বেজিঙের সঙ্গে এআই দৌড়ে মার্কিন টেক জায়ান্টগুলির সমানে সমানে টক্কর দেওয়া কিন্তু একেবারেই সহজ নয়। কারণ, একদলীয় শাসনে থাকা ড্রাগন যতটা সস্তা দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিক্রি করতে পারবে, গণতন্ত্রের পীঠস্থান ওয়াশিংটনের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়।’’
এই পরিস্থিতিতে রাফারের মতো অ্যাসেট-ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলি চিনা কোম্পানি আলিবাবার স্টকে লগ্নির পরামর্শ দিয়েছে। তাদের দাবি, আগামী দিনে বেশ ভাল পারফরম্যান্স করবে বেজিঙের ওই সংস্থা। ফলে বিনিয়োগকারীদের পকেট ভরার প্রভূত সম্ভাবনা থাকছে। আলিবাবার পাশাপাশি ড্রাগনভূমির এআই চিপ, কৃত্রিম মেধার ভাষা মডেল এবং তথ্যভান্ডার বা ক্লাউড পরিকাঠামো নির্মাণকারী সংস্থাগুলির উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে রাফার।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত বছরের জানুয়ারিতে ‘ওপেন সোর্স রিজ়নিং মডেল’ বা বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি চালু করে চিনা সংস্থা ‘ডিপসিক’। এর নাম ‘ডিপসিক-আর১’। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটি বাজারে আসতেই মার্কিন শেয়ার বাজারে নামে ধস। হু-হু করে সম্পদ হারাতে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় টেক জায়ান্ট সংস্থা। বেজিঙের কৃত্রিম মেধাভিত্তিক প্রযুক্তিটির সঙ্গে আমেরিকার ‘ওপেনএআই’-এর তৈরি বহুল ব্যবহৃত ‘চ্যাটজিপিটি’র বেশ মিল রয়েছে। ফলে ড্রাগনের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি নকলের অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি একটি রিপোর্টে ‘ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েল্থ ম্যানেজমেন্ট’ নামের যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা চিনের কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিকে ‘সবচেয়ে আকর্ষণীয়’ রেটিং দিলে বিষয়টি নিয়ে লগ্নিকারীদের মধ্যে যথেষ্ট উন্মাদনা তৈরি হয়। ব্রোকারেজ ফার্মগুলি জানিয়েছে, বর্তমানে আমেরিকার বাজারের অন্যতম শেয়ার সূচক ন্যাসড্যাকে তালিকাভুক্তির সময় গড়ে টেক সংস্থার স্টকের দাম বৃদ্ধি পায় প্রায় ৩১ গুণ। সেখানে হংকঙের বাজারে এই অঙ্ক ২৪ গুণ। বেজিং নিয়ন্ত্রিত সংশ্লিষ্ট বাজারটিতে রয়েছে আলিবাবা এবং বাইডুর মতো ড্রাগনভূমির টেক জায়ান্ট।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ আবার এ ব্যাপারে পৃথক যুক্তিও দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নিয়ে আমেরিকার আমজনতার মধ্যে যতটা উন্মাদনা রয়েছে, বাস্তবে গবেষণার ক্ষেত্রে ততটা কাজ করছে না সরকার বা কোনও সংস্থা। উল্টো দিকে এ ব্যাপারে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে চিন। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে চিকিৎসাক্ষেত্র বা দৈনন্দিন ব্যবহারে এআই-কে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছে বেজিং।
গত বছর চিনা টেক জায়ান্ট তথা চিপ নির্মাণকারী সংস্থা ক্যামব্রিকন ও মন্টেজ টেকনোলজিসে সরাসরি মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করে আমেরিকার ক্রেনশেয়ারস ইটিএফ নামের অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। ২০২৬ সালের গোড়াতেই সেখান থেকে দুর্দান্ত রিটার্ন পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এটি অন্য লগ্নিকারীদেরও বেজিঙের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার কেনায় উৎসাহিত করেছে। ফলে গত ডিসেম্বরে ন্যাসড্যাকে তালিকাভুক্ত ‘এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড’ বা ইটিএফ চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সংস্থাকে ড্রাগনভূমির অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারি করতে দেখা গিয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে সাংহাইয়ের শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ করে চিনা চিপ নির্মাণকারী সংস্থা মেটাএক্স। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির কিছু ক্ষণের মধ্যেই আইপিও মূল্যের ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এর স্টকের দাম। মেটাএক্সের প্রতিদ্বন্দ্বী মুর থ্রেডসও লগ্নিকারীদের হতাশ করেনি। ওই দিন এক লাফে এর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায় প্রায় ৪০০ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্রোকারেজ ফার্মগুলির একাংশ আবার মনে করে, এআই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে আমেরিকার থেকে অনেক কম টাকা বিনিয়োগ করছে চিন। আলিবাবা বা বাইডুর মতো সংস্থাগুলির লক্ষ্যই হল সস্তা দরের কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি তৈরি করে সেটা আমজনতার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। তাতে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়া বা অন্য কোনও সমস্যা হতেই পারে। সেগুলিকে একেবারেই পাত্তা দিচ্ছে না বেজিং।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বার বার চিনের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রযুক্তি চুরির অভিযোগ। আগামী দিনে এআইয়ের লড়াইয়ে সেটাও আমেরিকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তবে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিরল খনিজের উপর মারাত্মক ভাবে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বেজিংয়ের। কৃত্রিম মেধায় উন্নতির অন্যতম কাঁচামাল হিসাবে ওই ধাতুগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। সে দিক থেকেও ওয়াশিংটনের চেয়ে ড্রাগন যে কিছুটা এগিয়ে আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দুনিয়ায় আমেরিকা-চিন সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ের মধ্যেই ড্রাগনভূমির শেয়ার বাজারে ঢুকে পড়েছে ভারত। সেখানে অবশ্য সরাসরি এ দেশের লগ্নিকারীদের বিনিয়োগের অনুমতি নেই। ফলে বেজিঙের কোনও টেক জায়ান্টের স্টক এ দেশের থেকে তাঁরা কিনছেন, এমনটা নয়। তবে ঘুরপথে মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে সেখানে টাকা ঢালছেন তাঁরা। এই প্রবণতা বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে একটাই কারণ। সেটা হল প্রায় ৪০ শতাংশ রিটার্ন। যদিও এই লগ্নিকে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষক থেকে একাধিক ব্রোকারেজ ফার্ম।
বেজিঙের শেয়ার বাজারে সিঁদ কাটতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা যে পদ্ধতি অবলম্বন করছেন, তার পোশাকি নাম ‘ফান্ড অফ ফান্ডস’ বা এফওএফ। একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। চিনা আইনে হংকং, মূল চিনা ভূখণ্ড এবং তাইওয়ান বা আরওসির (রিপাবলিক অফ চায়না) স্টকের দুনিয়ায় লগ্নির অনুমতি রয়েছে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের একগুচ্ছ সংস্থার। তাদের মিউচুয়াল ফান্ডের তহবিলে বিনিয়োগ করছে এখানকার মিউচুয়াল ফান্ড। রিটার্নও আসছে ওই সংস্থাগুলির মাধ্যমেই।
ধরা যাক, চিনা বাজারে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ড ‘এক্স’ (কাল্পনিক নাম)। সেই লক্ষ্যে বহুজাতিক ব্রিটিশ আর্থিক সংস্থা শ্রোডার্স পিএলসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করল তারা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির নিজস্ব মিউচুয়াল ফান্ড আছে এবং সেটা বেজিঙের স্টক বাজারে লগ্নি করতে পারে। এফওএফের নিয়ম মেনে ‘এক্স’ তার তহবিলের টাকা শ্রোডার্সের মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি করলেই ড্রাগনের বাজারে ঢুকে পড়বেন এ দেশের বিনিয়োগকারীরা। বর্তমানে এই রাস্তাই ধরেছে এখানকার বেশ কয়েকটি তহবিল।
ব্রিটিশ সংস্থা শ্রোডার্সের পাশাপাশি ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা বর্তমানে চিনের বাজারে লগ্নির কাজ করছে মার্কিন সংস্থা জেপি মর্গ্যান। বেজিঙের বেশ কিছু সংস্থার আবার পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগের অনুমতি রয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স বোঝার সূচকের নাম ‘গোল্ডেন ড্রাগন ইনডেক্স’। এর মাধ্যমে মান্দারিনভাষীদের শেয়ার বাজার কতটা চাঙ্গা বা ঝিমিয়ে আছে, তা বুঝতে পারে আমজনতা।
চিনা বাজারে লগ্নি করা ভারতীয় মিউচুয়াল ফান্ডগুলির দাবি, সেখান থেকে এক থেকে তিন বছরের ব্যবধানে ৪২ শতাংশ রিটার্ন পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই কারণে এর প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, বেজিঙের বাজারের এই ‘ষাঁড়ের দৌড়ের’ নেপথ্যে রয়েছে কৃত্রিম মেধাভিত্তিক টেক জায়ান্ট সংস্থাগুলির দুরন্ত পারফরম্যান্স।
তবে লগ্নিকারীদের চিনা কৃত্রিম মেধাভিত্তিক সংস্থাগুলিতে লগ্নির সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকায় সতর্ক করেছে একাধিক মার্কিন ব্রোকারেজ ফার্ম। তাদের দাবি, ওয়াল স্ট্রিটের মতো এ বার এআই স্টকের বুদবুদ তৈরি হচ্ছে সাংহাই ও হংকঙের বাজারে। তা ফেটে গেলে বিরাট লোকসানের মুখে পড়বেন তাঁরা।
সব ছবি: সংগৃহীত।