গত কয়েক মাস ধরেই বলিপাড়ায় গুঞ্জন। বিবাহবিচ্ছেদের পর দীর্ঘ বিরতি নিয়ে নায়িকা নাকি আবার প্রেমে পড়েছেন। তা-ও আবার সহ-অভিনেতার! দশ বছর আগেও সহ-অভিনেতাকে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন নায়িকা। কিন্তু সেই সম্পর্ক টেকেনি কীর্তি কুলহারির।
বিবাহবিচ্ছেদের পাঁচ বছর পর সহ-অভিনেতার সঙ্গে আদুরে ভিডিয়ো পোস্ট করে নতুন বছরেই নিজের সম্পর্কে সিলমোহর দেন কীর্তি। অভিনেতা রাজীব সিদ্ধার্থের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছেন তিনি। ‘ফোর মোর শট্স প্লিজ়’ সিরিজ়ে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন কীর্তি এবং রাজীব।
১৯৮৫ সালের মে মাসে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্ম কীর্তির। বাবা-মা, দুই দিদি এবং ভাইয়ের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি। কীর্তির বাবা নৌবাহিনীর কমান্ডার। ভাই মার্চেন্ট নেভির ক্যাপ্টেন। এক দিদি ভারতীয় সেনায় কর্মরতা। কিন্তু পরিবারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেনায় যোগ দেননি কীর্তি। বরং তিনি কেরিয়ার গড়েন অভিনয়ে।
স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন নিয়ে পড়াশোনা করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন কীর্তি। কলেজে পড়াকালীন মডেলিং শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর মডেলিংজগতে কাজ করার পর বিভিন্ন নামী সংস্থার বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের সুযোগ পেতে শুরু করেন তিনি।
একটি নাটকের দলে যোগ দিয়ে এক মাসের জন্য অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন কীর্তি। একাধিক নাটকের পাশাপাশি মিউজ়িক ভিডিয়োয় অভিনয় করেন তিনি।
একটি নাটকের দলে যোগ দিয়ে এক মাসের জন্য অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন কীর্তি। একাধিক নাটকের পাশাপাশি মিউজ়িক ভিডিয়োয় অভিনয় করেন তিনি।
২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পিঙ্ক’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন কীর্তি। কেরিয়ারে সাফল্যের স্বাদ পাওয়ার আগেই ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু হয় নায়িকার।
বিজ্ঞাপনী শুটের সময় কীর্তির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল বলি অভিনেতা সাহিল সেহগলের। প্রথম আলাপ থেকে সম্পর্ক প্রেমেও গড়িয়ে যায়। ২০১৬ সালের জুন মাসে সাহিলকে বিয়ে করেন কীর্তি। ‘পিঙ্ক’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে বিয়ে হয়ে যায় নায়িকার।
‘ইন্দু সরকার’, ‘মিশন মঙ্গল’, ‘উরি: দ্য সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর মতো একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন কীর্তি। এমনকি, ওটিটির পর্দায়ও অভিনয়ের জন্য প্রশংসা কুড়োতে থাকেন তিনি। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’, ‘শাদিস্তান’-এর মতো ছবির পাশাপাশি ‘ফোর মোর শট্স প্লিজ়!’, ‘বার্ড অফ ব্লাড’, ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস: বিহাইন্ড ক্লোজ়ড ডোরস’, ‘শেখর হোম’-এর মতো ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করতে দেখা যায় কীর্তিকে।
‘ফোর মোর শট্স প্লিজ়!’ ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কীর্তি। ২০১৯ সালে এই সিরিজ়ের প্রথম সিজ়নে অভিনয় করেছিলেন কীর্তির স্বামী সাহিলও। কিন্তু প্রেম করে বিয়ে হলেও সেই সংসার সুখের হয়নি।
২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ছাদ আলাদা হয়ে যায় কীর্তি এবং সাহিলের। বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কীর্তি বলেছিলেন, ‘‘আমি বিয়ে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছিলাম, এই সম্পর্ক জোর করে টেনে নিয়ে গেলে শান্তি পাব না।’’
‘বিয়ে’ নামক প্রতিষ্ঠানে যে কীর্তির বিশ্বাস নেই তা-ও জোর গলায় জানিয়েছিলেন নায়িকা। ভবিষ্যতে সম্পর্কে জড়ালেও বিয়ের জন্য যে তিনি তৈরি নন, তা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
‘ফোর মোর শট্স প্লিজ়!’ ওয়েব সিরিজ়ে কীর্তির সহ-অভিনেতা রাজীব সিদ্ধার্থ। এই সিরিজ়ে কীর্তির বান্ধবীর সঙ্গীর চরিত্রে অভিনয় করেন রাজীব। পরস্পরের বিপরীতে অভিনয় না করলেও সেটে থাকাকালীন তাঁদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকেই কীর্তির সঙ্গে রাজীবের সম্পর্ক নিয়ে কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে।
থিয়েটারে অভিনয় করতেন রাজীব। এমবিএ করার পর ব্যাঙ্কে এক বছর কাজও করেছিলেন তিনি। এক সংস্থায় আর্থিক পরামর্শদাতা হিসাবে কর্মরতও ছিলেন রাজীব। কিন্তু অভিনয়কে পেশা হিসাবে বেছে নেবেন বলে মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।
২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জলি এলএলবি’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে রাজীবকে। তা ছাড়া ববি দেওল অভিনীত ‘আশ্রম’ ওয়েব সিরিজ়েও অভিনয় করেছেন তিনি।
সহ-অভিনেতার সঙ্গে কীর্তির সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলে তাতে ইতি টেনে দেন নায়িকা নিজেই। বর্ষবরণে রাজীবের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলি ভিডিয়ো আকারে সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট করে তাঁদের সম্পর্কে সিলমোহর দেন কীর্তি।
সব ছবি: সংগৃহীত।