Work from Home Mistakes

খাওয়ার টেবিল, সোফা কাজের জায়গা নয়, কেন মনে রাখা দরকার? না হলে কোন সমস্যা হতে পারে?

কোমর-পিঠে ব্যথা, ঘাড়ের যন্ত্রণায় নাজেহাল। সমস্যার সূত্রপাত কি বাড়ি থেকে কাজ করার ফলেই?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৯
সোফা, খাওয়ার টেবিল থেকে বসে কাজ করছেন? ফল কী হতে পারে?

সোফা, খাওয়ার টেবিল থেকে বসে কাজ করছেন? ফল কী হতে পারে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

‘বাড়ি থেকে কাজ’ যেমন অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে, তেমনই জন্ম দিয়েছে নতুন সমস্যার। বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা অনেক। সাজপোশাকের বাহারের দরকার হয় না, ঘুম থেকে উঠে অফিস যাওয়ার প্রস্তুতি নেই, পরিবহণের খরচ নেই, শুধু বাড়ি নয়, প্রয়োজনে অন্য জায়গা থেকে বসেও কাজ করা যায়।

Advertisement

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্যত্র। কারও অভিযোগ কোমরে ব্যথার, কেউ ঘাড়ের যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছেন, কারও সমস্যা হচ্ছে হাত নাড়াতে গেলেই। অফিসে যে সমস্যাগুলি সচরাচর হত না, বাড়িতে কিছুক্ষণ বসে কাজ করলেই কোমর-পিঠে টান ধরছে অনেকের। চিকিৎসকেরাই জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে এমন রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

সমস্যা বাড়ি থেকে বসে কাজ করায় নয়, সমস্যা বসার জায়গায়। কেউ কাজ করছেন খাওয়ার টেবিল-চেয়ারে বসে, কেউ খাটে ঠেস দিয়ে, কেউ আবার সোফায় গা এলিয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই ভাবে কাজ করতে গিয়েই হচ্ছে সমস্যা। কারও ঘাড়ে ব্যথা, কেউ হাত নাড়াতে গেলেই কাঁধে যন্ত্রণা হচ্ছে, কারও আবার হচ্ছে চোখে ব্যথা।

চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, খাওয়ার টেবিল-চেয়ার দীর্ঘ সময় বসে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করার জন্য তৈরি হয় না। সোফায় বসলে মেরুদণ্ড সোজা থাকে না। আবার সঠিক ভঙ্গিতে না বসার ফলে চোখের উপরেও বাড়তি চাপ পড়ছে। দিনের পর দিন ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করার ফলেই চুপিসারে হানা দিচ্ছে নানা শারীরিক সমস্যা।

কোন ধরনের সমস্যা বাড়ছে?

· তরুণদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে কোমর-পিঠে ব্যথা।

· স্পন্ডিলাইটিসের মতো সমস্যা।

· মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক আকৃতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

· ঘাড়ে-কাঁধের ব্যথা বাড়ছে।

অনেক পেশাতেই এখন কাজ হয় পুরোপুরি বাড়ি থেকে। কোনও কোনও অফিসে আবার ‘হাইব্রিড মোড’ চালু রয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহে ২-৩দিন অফিস যেতে হবে, বাকি দিনগুলি বাড়িতে থেকেই কাজ করা যাবে।

বাড়ি থেকে যাঁদের লম্বা সময় ধরে কাজ করতে হয়, তাঁদের বসার জায়গাটি নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত, বলছেন চিকিৎসকেরা। অফিসের ডেস্কের মতোই বাড়িতে কাজ করার উপযুক্ত জায়গা তৈরি করা উচিত।

১। সোজা হয়ে বসা এবং টেবিলের উপর ল্যাপটপ কোন উচ্চতায় থাকবে সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উচ্চতায় সেট করা যায়, এমন চেয়ার ঘরে কিনে নিলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কেনার আগে সেটি আরামদায়ক কি না, কতটা পর্যন্ত উঁচু করা যায় বা নামানো যায় তা দেখে নেওয়া দরকার।

২। যে টেবিলে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার রয়েছে, সেই টেবিলেই কনুই থেকে হাতের অগ্রভাগ থাকবে। কনুই টেবিলে রাখা খুব জরুরি। না হলে কাঁধে হাতে ব্যথা হতে পারে। চেয়ার এমন উচ্চতায় রাখতে হবে, যাতে খুব সহজে কনুই টেবিলে রেখে কাজ করা যায়।

৩। পিঠে সাপোর্টের জন্য বসার চেয়ারে কুশন রেখে বসার ভঙ্গি সহজ করে নিতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে, শিরদাঁড়া যেন সোজা থাকে। ঠেস দেওয়ার সময় হেলে গেলে চলবে না।

৪। কম্পিউটারের স্ক্রিন বা ল্যাপটপটি থাকবে চোখের সমান্তরালে। চোখ থেকে অনেকটা নিচুতে থাকলে ঘাড়ে ব্যথা হবে। সোজা হয়ে বসার পর যাতে সহজে কম্পিউটারে কাজ করা যায়, সেই উচ্চতা নির্ধারণ করা জরুরি। প্রয়োজনে উচ্চতা ঠিক রাখার জন্য ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন।

পাশাপাশি চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, টানা বসে কাজ না করার ব্যাপারেও। কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি যেমন ক্লান্তি, একঘেয়েমি দূর করে, তেমনই এতে ব্যথার সমস্যাও কমবে।কাজের ফাঁকে মিনিট পাঁচেক হাঁটা বা হাঁটার সময় শরীর স্ট্রেচ করে নিলে কষ্ট কমবে। কাজের সময়ও চেয়ারে বসে সহজ যোগাসন করা যায়। ছোট ছোট নিয়মেই এমন সমস্যার সমাধান হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন