Eating Sweets for Diabetics

ছাড়তে হবে না মিষ্টি, শুধু জানতে হবে খাওয়ার কৌশল, ডায়াবেটিকেরা শর্করা বশে রাখবেন কী ভাবে?

ডায়াবিটিস থাকলেও মিষ্টির জন্য মন ছটফট করে না। রোজ খাওয়া যাবে না ঠিকই, কিন্তু মাঝেমধ্যে মিষ্টিমুখ করলেও কৌশলী হওয়া দরকার। কী ভাবে মিষ্টি খেলে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৬:২৪
The golden rule of eating sweets for diabetics

কী ভাবে মিষ্টি খেলেও বাড়বে না সুগার? ছবি: সংগৃহীত।

সকলে যখন রসগোল্লা, আইসক্রিম উপভোগ করছে, তখন সাবধানবাণী শুনতে হয় ডায়াবেটিকদের। জিভে জল এলেও, তা গিলে ফেলা ছাড়া গতি থাকে না, সকলের শাসনে।

Advertisement

স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখলে ডায়াবেটিকেরা চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পারেন না। কারণ, খাবারে থাকা কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাই বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তের শর্করা। তবু রোগ যতই থাক, পছন্দের মিষ্টি খেতে কার না ইচ্ছা হয়? অন্তত পালা-পার্বণে বা অনুষ্ঠানে মন তো মিষ্টি-বিলাস চায়।

চিনি খাওয়া ভাল নয়, তা যেমন ঠিক, তেমনই মিষ্টি কখনও খাওয়া যাবে না, তা-ও বেঠিক — বলছেন ডায়াবেটিকের চিকিৎসকেরা। পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, চিনি উপকারী নয়। কিন্তু মন যখন ছটফট করছে মিষ্টি খাওয়ার জন্য তখন? তারই উপায় বাতলাচ্ছেন চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা বলছেন, মাঝেমধ্যে ডায়াবেটিকেরাও মিষ্টিমুখ করতে পারেন, তবে তার জন্য কৌশলী হওয়া জরুরি।

শুধু মিষ্টি না খেয়ে তার সঙ্গে ফাইবার বা প্রোটিন জুড়ে নেওয়া জরুরি। এমনকি বেশি শর্করাযুক্ত বা রসালো ফলের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি খাটে।

নিউইয়র্ক সিটির ‘ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন’-এর এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রোটিন ও ফাইবার খাওয়ার পরে কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা তেমন বাড়ে না। উল্টে সমীক্ষায় এমনও দেখা গিয়েছে যে, খাওয়ার ৩০ মিনিট পরে শর্করার মাত্রা ২৯ শতাংশ কমেছে। ৬০ মিনিট পরে তা কমে হয়েছে ৩৭ শতাংশ। ১২০ মিনিট পরে তা ১৭ শতাংশে নেমে গিয়েছে।

এই সমীক্ষা অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখতে হলে প্রথমে খেতে হবে ফাইবারসমৃদ্ধ সব্জি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। তার পরে কার্বোহাইড্রেট, শর্করা বা শেষপাতের মিষ্টি।

কী ভাবে মিষ্টি খাবার খাওয়া ভাল?

৪-৫টি করে আখরোট, কাঠবাদাম খেয়ে তার পরে মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া যায়। বাদামে থাকা ফাইবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শর্করা শোষণে বাধা দেবে।

বিকেলে আলাদা করে ফল না খেয়ে ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার পরে মিষ্টি এবং রসালো ফল খাওয়া ভাল। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।

ডায়াবেটিকদের ক্যালোরির দিকটাও খেয়াল রাখতে হয়। ফলে একটি মিষ্টি বা আইসক্রিম খেলে দিনের অন্য খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে।

নিয়মিত মিষ্টি খাওয়া ডায়াবেটিকেদর জন্য একেবারেই ভাল নয়। তবে কখনও ইচ্ছা হলে এক-আধটা খাওয়া যেতে পারে। সেই সময়ে এই পন্থা অনুসরণ করলে চট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন