লস্যি খেলেই ঘুম পায়! নেপথ্যে কোন কারণ থাকতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
দিনভর রোদে হাঁটাহাটির পর এক গ্লাস লস্যি খেলে যেন প্রাণ জুড়োয়। আবার উত্তর ভারত-সহ দেশের নানা প্রান্তে অনেকেই পরোটা বা রুটি খাওয়ার পরেও লস্যি খান। তপ্ত দিনে ঠান্ডা পানীয়টি দিয়ে গলা ভিজিয়েছেন কি ভেজাননি, খানিক পরেই যেন দুই চোখে নেমে আসে ঘুম।
এমনিতে টক দই উপাদেয় খাবার। এতে থাকা প্রোবায়োটিক পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। তবে শুধু টক দই নয়, তার মধ্যে কেউ চিনি-নুন পাতিলেবু মশলা মিশিয়ে লস্যি বানান, আবার কোনও কোনও রাজ্যে টক দই পাতলা করে তার মধ্যে নুন-মশলা মিশিয়ে ছাস তৈরি কর খওয়ার চল আছে।
তবে ঘুমের সমস্যা হয় নুন-চিনি দিয়ে ঘন লস্যি তৈরি করলেই। দিল্লির বেসরকারি হাসপাতালের ফুসফুসের চিকিৎসক বিনি কান্ত্রু জানাচ্ছেন, লস্যি দুধ থেকে তৈরি হয়। এতে থাকে ট্রিপটোফ্যান, যা সেরোটোনিন নামক নিউরো ট্রান্সমিটারের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনের কাজই হল স্নায়ুকে শিথিল করা। ফলে লস্যি খেলে কখনও কখনও ঘুম ঘুম ভাব হয়।
দিল্লির একটি বেসরকারি হাসাপতালের অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদ রুচিকা জৈন এক সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন ঘুম ঘুম ভাবের নেপথ্য কারণ।
প্রথমত, ঘন, চিনি দেওয়া লস্যিতে প্রচুর ক্যালোরি মেলে। পেট ভরে যায় এক গ্লাস লস্যিতেই। চিনি দেওয়া লস্যি হজম করা সহজ নয়। খাবার হজম করতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়, ফলে ঘুম ঘুম ভাব বা আলস্য লাগে।
দ্বিতীয়ত, দইয়ে মেলে ট্রিপটোফ্যান নামের এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা শরীরের দু’টি গুরত্বপূর্ণ হরমোন সেরাটোনিন এবং মেলাটোনিন নিঃসরণে সাহায্য করে। ঘুমের নেপথ্যে থাকে মেলাটোনিনের ভূমিকা। যেহেতু দই খেলে দুই হরমোন নিঃসরণ সহজ হয়, তাই আলস্য চেপে বসে, ঘুম ঘুম বোধ হয়।
তৃতীয়ত, দইয়ের মধ্যে থাকা জ়িঙ্ক এবং ম্যাগনেশিয়াম মেলাটোনিন তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক।
দুধ ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা ফারমেন্টেড হয়ে দইয়ে পরিণত হয়, যা পেটের উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শরীরের অধিকাংশ সেরোটোনিন অন্ত্রে তৈরি হয়। দই পেটের পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রেখে সেরোটোনিন নিঃসরণে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি সেরোটোনিনকে মেলাটোনিনে রূপান্তরিত করে, যা ঘুম আনতে সাহায্য করে।
ঘন লস্যি অনেক সময়েই হজম করা কঠিন হয়। বিশেষত অম্বলের সমস্যা থাকলে কারও কারও তা থেকে কষ্টও হতে পারে। তবে চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, লস্যি খেলেই যে ঘুম পায়, তা নয়। এক এক জনের শরীরে তা এক এক রকম প্রভাব ফেলে। লস্যি কী ভাবে খাওয়া হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, লস্যি বা দইয়ের ঘোল শরীর ঠান্ডা রাখতেই খাওয়া হয়। পাতলা লস্যি, কম চিনি দিয়ে খেলে গরমের দিনে স্বস্তি মিলতে পারে। আবার লস্যি যদি পেটভরা খাবারের পর খাওয়া হয়, তা হলে আলস্য বা ঘুম ভাব আসতে পারে।এর সঙ্গে ব্যক্তিবিশেষের পরিপাক ক্ষমতার বিষয়টিও জুড়ে যায়।