Kidney Failure

পাঁচ বছর আগেই কিডনির রোগ ধরা পড়বে একটিমাত্র পরীক্ষায়, ক্ষতি হওয়ার আগেই তা করিয়ে নিন, খরচ কত?

কিডনির রোগ বলেকয়ে আসে না। ইদানীংকালে ক্রনিক কিডনির রোগ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কিডনির গতানুগতিক পরীক্ষাগুলিতে রোগ ধরা পড়ে অনেক পরে। কিন্তু একটি পরীক্ষা রয়েছে যা করিয়ে রাখলে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া যাবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪
This test can detect kidney damage 5 years earlier than standard blood work

কিডনির রোগ ধরা পড়বে আগেই, পরীক্ষাটি কী, খরচ কত? ছবি: ফ্রিপিক।

কিডনির রোগ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। ক্রনিক কিডনি ডিজ়িজ় এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রকও এই নিয়ে সতর্ক করেছে। জানা গিয়েছে, কিডনির রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন কমবয়সিরাই। কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা তো আছেই, পাশাপাশি কিডনিতে সংক্রমণ, পলিসিস্টিক কিডনির অসুখ এবং ফ্যাটি কিডনির লক্ষণও ধরা পড়ছে। তাই আগে থাকতেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ডায়াবিটিস বা হার্টের রোগ যাঁদের আছে অথবা ঘন ঘন মূত্রনালির সংক্রমণে ভোগেন, তাঁরা গতানুগতিক কিছু পরীক্ষার পাশাপাশি একটি পরীক্ষা অবশ্যই করিয়ে রাখবেন। এই পরীক্ষাটি করানো থাকলে কিডনির রোগের ঝুঁকি আছে কি না, তা অনেক আগেই ধরা পড়বে।

Advertisement

কোন পরীক্ষাটি সবচেয়ে বেশি জরুরি?

কিডনির স্বাস্থ্য কেমন তা জানতে কিডনি ফাংশন টেস্টই বেশি করানো হয়। এই পরীক্ষাটির নামই বেশি পরিচিত। এতে ধরা পড়ে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কতটা। ক্রিয়েটিনিন হল বিপাকক্রিয়া বা পেশির ক্ষয়ের কারণে তৈরি একরকম বর্জ্য পদার্থ যার মাত্রা বাড়লে কিডনি তা ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বার করে দেয়। তাই যদি ধরা পড়ে, রক্তে এর মাত্রা বাড়ছে তা হলে বুঝতে হবে কিডনি ক্রমশ অকেজো হতে শুরু করেছে। তবে কিডনি ফাংশন টেস্টের সীমাবদ্ধতা হল, এটি কেবল ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাই নির্ধারণ করতে পারে। আর ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি দেখানোর অর্থই হল, কিডনি ইতিমধ্যেই বিকল হতে শুরু করে দিয়েছে। এক জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ক্রিয়েটিনিনের স্বাভাবিক পরিমাণ ০.৭ থেকে ১.৩ মিলিগ্রাম এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ০.৬ থেকে ১.১ মিলিগ্রাম। এর বেশি মানেই তা কিডনির ক্রনিক রোগের লক্ষণ।

তাই এর চেয়েও বেশি কার্যকর পরীক্ষাটি হল ‘ইউরিন এসিআর’ বা ‘ইউরিন অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিয়ো’। এটি প্রস্রাবের একরকম পরীক্ষা যা শুধু ক্রিয়েটিনিন নয়, কিডনি থেকে নির্গত প্রোটিন অ্যালবুমিনের মাত্রাও নির্ধারণ করে। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা তখনই বিপদসীমা পেরিয়ে যায়, যখন কিডনির প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। তবে অ্যালবুমিন নির্গত হয় অনেক আগেই। কিডনির ছাঁকনি যখন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখনই অ্যালবুমিন নির্গত হতে শুরু করে। এটি একধরনের প্রোটিন যার পরিমাণ দেখে বোঝা যায়, কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

পরীক্ষাটি কী ভাবে করা হয়?

রোগীর প্রস্রাবের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে তাতে অ্যালবুমিন ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রার অনুপাত দেখা হয়। সেটি যদি ৩০-এর কম হয়, তা হলে বুঝতে হবে কিডনি সুস্থ আছে। যদি ৩০ থেকে ৩০০-র মধ্যে হয়, তা হলে বুঝতে হবে সেটি কিডনির রোগের প্রাথমিক ধাপ। এই অবস্থাকে বলা হয় মাইক্রোঅ্যালবুমিনুরিয়া। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠা যাবে। কিন্তু যদি মাত্রা ৩০০-র বেশি হয়, তা হলে বুঝবে হবে কিডনির বড়সড় ক্ষতি হতে পারে। দেরি না করেই চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে। পরীক্ষাটির খরচ ৫০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে।

Advertisement
আরও পড়ুন