side-effects of ORS

গরম পড়তেই নিয়ম করে ওআরএস খাচ্ছেন? জলশূন্যতার এই দাওয়াই কাদের জন্য ক্ষতিকর?

ওআরএস কোনও শক্তিবর্ধক পানীয় নয়। গরম পড়েছে বলে যখন তখন ইচ্ছে করলেই ওআরএস খেয়ে নেওয়া যায় না। কখন ওআরএস খাওয়া আবশ্যিক আর কখন নয়, জেনে নিন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১৪:১৩
ওআরএস কখন খাবেন, কখন খাবেন না?

ওআরএস কখন খাবেন, কখন খাবেন না? ছবি: সংগৃহীত।

গরম পড়তেই ওষুধের দোকানগুলিতে বিক্রি বেড়েছে ওআরএসের। অনেক অভিভাবকই শিশুর টিফিনের সঙ্গে একটি করে ফ্লেভার্ড প্যাকেটবন্দি ওআরএস দিয়ে দেন। বড়রাও রোদ থেকে বাড়ি ফিরে ওআরএসে চুমুক দেন। তবে, ওআরএস কোনও শক্তিবর্ধক পানীয় নয়। গরম পড়েছে বলে যখন তখন ইচ্ছে করলেই ওআরএস খেয়ে নেওয়া যায় না। কখন ওআরএস খাওয়া আবশ্যিক আর কখন নয়, জেনে নিন।

Advertisement

ওআরএস-এর অর্থ হল ওরাল ডিহাইড্রেশন সলিউশন। ওআরএস গ্লুকোজ়, সোডিয়াম, পটাশিয়াম আর বাইকার্বনেট সহ একটি জলীয় মিশ্রণ।

কখন খাবেন?

১) অ্যাকিউট ডায়েরিয়া: গরম পড়তেই ডায়েরিয়ার সমস্যা বাড়ে। আর ডায়েরিয়া হলে শরীরে জলশূন্যতা বেড়ে যায়। ডায়েরিয়া বাড়াবাড়ি পর্যায় পৌঁছোনোর আগে শরীর চাঙ্গা রাখতে ওআরএস খেতে হবে। অথবা বাইরে কোথাও ঘুরতে গিয়ে পেটের সমস্যায় পড়লে, ডায়েরিয়া হলেও ওআরএস খাওয়া দরকার।

২) বমি: কোনও কারণে যদি দিনে একাধিক বার বমি হয়, তখন ওআরএস খেতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে চুমুক দিয়ে অল্প অল্প করে ওআরএস খাওয়া দরকার। একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে নিলে আবার বমি বেড়ে যেতে পারে।

৩) অতিরিক্ত ঘাম হলে: রোদে বেড়িয়ে খুব বেশি ঘাম হলে, বা শরীরে অস্বস্তি হলে ওআরএস খেয়ে নিলে অনেকটাই আরাম হয়।

৪) জ্বর: জ্বর হলে শরীর থেকে অনেক সময়ে জল বেরিয়ে যায়, তাই শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রেও ওআরএস খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

৫) সংক্রমণ: শরীরে সংক্রমণজনিত কারণেও জলশূন্যতা ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রেও ওআরএস খাওয়া যেতে পারে।

৬) শরীরচর্চার পর জলশূন্যতা: অতিরিক্ত শরীরচর্চার পর শরীর থেকে যখন অনেকটা ঘাম বেড়িয়ে যায়, তখনও ক্লান্তি আসে। সেই সময়েও শরীর চাঙ্গা করতে, ডিহাইড্রেশন এড়াতে ওআরএস খাওয়া যেতে পারে।

কখন খাবেন না?

ডিহাইড্রেশন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে ওআরএস খেয়ে কোনও লাভ হয় না, তখন আইভি (ইন্ট্রাভেনাস) ফ্লুয়িড দিতে হয় রোগীকে। এক নাগাড়ে বমি হতে থাকলেও ওআরএস খেয়ে লাভ নেই, তা বমির সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে। এ ছাড়া ইনটেসটেনাল অবস্ট্রাকশনের ক্ষেত্রে ওআরএস খেলে খাবার বা জলটা শরীরের নীচের দিকে নামবে না, বমি বেড়ে যেতে পারে। অজ্ঞান অবস্থায় ওআরএস নয়, এ ক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসনালিতে ওআরএস ঢুকে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ওআরএস-এ সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, তাই কিডনি ফেলিওর হলে ওআরএস খাওয়া যাবে না। হার্ট ফেলিওর হলেও ওআরএস খাওয়া যাবে না কারণ এতে জল আর সোডিয়াম আছে। ডায়াবেটিক রোগীরাও ওআরএস খাবেন না। এতে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ় রক্তের শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন