হাত ধোয়ার ভুলেই বাড়তে পারে পেটের সমস্যা। ছবি: সংগৃহীত।
পেটের সমস্যায় জর্জরিত অধিকাংশ মানুষই। গ্যাস, অম্বল, পেটে ব্যথা, ডায়েরিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য— রোগের শেষ নেই। ঝালে-ঝোলে-অম্বলে খাওয়ার অভ্যাস গ্যাস-অম্বলের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তার উপর গরম পড়লেই ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। কখনও খাবারের মাধ্যমে, কখনও জলবাহিত হয়ে সেই সব জীবাণু ঢুকে পড়ে শরীরে এবং খাদ্যনালিতে সংক্রমণ ঘটায়। শিশু ও বয়স্কদের এই সময়টায় পেটের সমস্যা বেশি ভোগায়। চিকিৎসকদের মতে, পেটের সমস্যার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হল হাত না ধোয়া। অনেকেই বলতে পারেন যে খাওয়ার আগে সব সময়ে তাঁরা হাত ধুয়ে নেন, তবে হাত ধুতে গিয়ে কিছু ভুল তাঁরা অজান্তেই করে বসেন।
১) জীবাণু মারতে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গিয়েছে বেশির ভাগ মানুষই গড়ে ছয় সেকেন্ডের বেশি হাত ধোন না। তাড়াহুড়ো করলে ক্ষতি পেটেরই হবে। অনেকেই আছেন যাঁরা শৌচাগার ব্যবহারের পরে পর হাত ধুতে ভুলে যান। সে দিকটাও মাথায় রাখতে হবে।
২) অনেকেই হাত ধোওয়ার সময় শুধু হাতের তালুতে সাবান দিয়ে কচলে ভাল করে ধুয়ে নেন। এতে কিন্তু জীবাণু সম্পূর্ণ মরে না। নখের তলায় ও আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে থেকে যায় জীবাণু, ধুলো, নোংরা। তাই প্রতি বার হাত ধোয়ার সময়ে এই জায়গাগুলিও ভাল করে ধুয়ে নেওয়া দরকার।
৩) বিশ্বের সেরা অ্যান্টিসেপটিক সাবান দিয়ে হাত ধুয়েও লাভ হবে না যদি না ধোয়ার পর হাত শুকনো করে মুছে নেন। কারণ ভেজা হাতে আবার নতুন করে জীবাণু জন্ম নেয়। অনেকেই হাত ধুয়ে মোছেন না। যখনই হাত ধোবেন পরিষ্কার তোয়ালে বা টিস্যু পেপার দিয়ে শুকনো করে হাত মুছে নিন। ভেজা হাত জামাকাপড়ে মুছেও লাভ নেই।
৪) আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যাঁদের অভ্যাস শুধু শৌচাগার ব্যবহারের পরেই হাত ধোয়া। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সারা দিন অনেক কিছু থেকেই জীবাণু ছড়াতে পারে। লিফটের বোতাম, দরজার হাতল, এটিএম, সাবওয়ে বা বাসের হ্যান্ডল ধরার পর অবশ্যই হাত ধোয়া উচিত। এ সব জায়গা থেকে জীবাণু সংক্রমণ হয় সহজে। ব্যাগে রাখুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। অন্তত ৬০ শতাংশ অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
৫) বাড়ির বাইরে আছেন বা সামনে কোনও শৌচাগার নেই, সেই সব ক্ষেত্রে স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সব সময় স্যানিটাইজ়ার ব্যবহার না করাই ভাল। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ থাকলে সেটাই করুন।