Fibro fog vs Brain Fog

ধোঁয়াশা জমে মনেও, ভুলে যান সদ্য ঘটা ঘটনাও, ‘ব্রেন ফগ’-এর থেকে আলাদা ‘ফাইব্রো ফগ’! কী এই রোগ?

সারা শরীরে ব্যথা। সঙ্গে সীমাহীন ক্লান্তি। ভুলে যাচ্ছেন ছোটখাটো বিষয়ও। একে মানসিক চাপ বা ‘ব্রেন ফগ’ ভেবে ফেললে ভুল হবে। কারণটা ঠিক কী?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৩:২০
Understanding Fibromyalgia, the Silent Disease of Chronic Pain, Fatigue and Forgetfulness

ব্রেন ফগ নয়, ফাইব্রো-ফগ, সে কারণেই কি সব ভুলে যাচ্ছেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চশমাটা টেবিলে রেখে ভুলেই গিয়েছেন যে কোথায় রেখেছিলেন। বাজারের থলি হাতে বেরিয়ে আর মনে নেই, ঠিক কী কী কেনার কথা ভেবেছিলেন। অফিসে বসে মেল খুলে মনেই পড়ছে না যে ঠিক কোন কাজটা করবেন বলে ভেবেছিলেন। ছোটখাটো এই সব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কম-বেশি সকলেই। কেউ একে মনের ভুল আবার কেউ ঘুম কমের কারণে হচ্ছে ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, সীমাহীন ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে ‘ব্রেন ফগ’ ভেবে ফেললে ভুল হবে। ইদানীং ‘ব্রেন ফগ’ বা মস্তিষ্কের ধোঁয়াশা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি। ফলে আড়ালে চলে যাচ্ছে আরও এক সমস্যা। এটি মানসিক চাপ বা ‘ব্রেন ফগ’-এর চেয়ে থেকে কিছুটা আলাদা এবং পরিণতি বিপজ্জনকও হতে পারে।

Advertisement

দেশের ‘সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি) জানিয়েছে, ক্লান্তির কারণে সারা শরীরে ব্যথা, হজমের গোলমাল ও সেই সঙ্গে মনঃসংযোগের অভাব এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা— এই উপসর্গগুলি যদি একসঙ্গে হানা দেয়, তা হলে বুঝতে হবে সমস্যাটি কেবল মনের চাপ বা ‘ব্রেন ফগ’ নয়, এটির কারণ হত পারে ‘ফাইব্রো ফগ’। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম ‘ফাইব্রোমায়ালজিয়া’।

ফাইব্রোমায়ালজিয়া দীর্ঘমেয়াদি এবং জটিল একটি শারীরিক সমস্যা যার কোনও উপসর্গ প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায় না। সাধারণ ক্লান্তি ভেবেই ভুল করেন অনেকে। এই সমস্যাটি হলে সারা শরীরে যন্ত্রণা হতে থাকে। গাঁটে গাঁটে ব্যথা হয়। সেই সঙ্গে ক্লান্তি বাড়ে। ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। মেজাজেও বদল আসতে থাকে। অনেকেই ভাবেন মানসিক চাপের জন্য এমন হচ্ছে। ফলে রোগটি ধরাও পড়ে না এবং পরবর্তী সময়ে এর থেকেই প্যানিক অ্যাটাক বা স্মৃতিনাশের মতো সমস্যা দেখা দিতে পরে।

শরীর কী ভাবে সঙ্কেত দেয়?

ক্লান্তি বাড়বে, সেই সঙ্গে সারা শরীরে ব্যথাও হতে থাকবে। পেশির জড়তা দেখা দেবে। ফলে, হাত-পা নাড়াতে গেলে ব্যথা হবে।

পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি যাবে না, ছোটখাটো বিষয়ও ভুলতে শুরু করবেন। মনঃসংযোগের ঘাটতি হবে এবং কথাবার্তাও অসংলগ্ন হয়ে পড়তে পারে।

সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হবে, বিভ্রান্তি বাড়বে। ঘুমের সমস্যা দেখা দেবে। রাতে শুয়ে ঘুম আসবে না, দুশ্চিন্তা বাড়বে।

‘ফাইব্রো ফগ’-এর কারণে অবসাদও দেখা দিতে পারে।

পুরুষদের তুলনায় নারীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গবেষণা বলছে, বংশগত ভাবেও রোগটি ছড়াতে পারে। এর যেহেতু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নেই, তাই রোগটি ‘ফাইব্রো-ফগ’ কি না, তা যাচাই করা বেশ কঠিন। গবেষকরা জানাচ্ছেন, জীবনযাত্রায় বদল এনে এবং নিয়মিত শারীরিরচর্চা ও মেডিটেশন করলে, এই রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন