Falta Model

অভিষেকের ডায়মন্ড হারবারে শুভেন্দুর ‘ফলতা মডেল’! উন্নয়ন হবে জাহাঙ্গিরকে হারালে, ভোটপ্রচারে কথা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

গত সপ্তাহে জনকল্যাণ শিবিরের অনুষ্ঠান থেকে ফলতার জন্য সরকারের একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বাজেটে আলাদা করে উল্লেখ করা হল ‘ফলতা মডেল’-এর কথা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১৬:০৪
Falta Model

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ক্ষমতার পালাবদলের অনতিবিলম্বে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক-সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’। সেই লোকসভার অধীনস্থ ফলতা বিধানসভাকে এ বার মডেল হিসাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পূর্বঘোষণা মাফিক বাজেটেও প্রস্তাব দেওয়া হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই জনপদকে ‘মডেল’ ব্লক হিসাবে গড়ে তোলা হবে। প্রথম দফায় স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাখাতে নজর দিল শুভেন্দুর সরকার। বাজেট ঘোষণা শেষে ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার মন্তব্য, ‘‘আমার বিধানসভার যা যা ঘোষণা কর হল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।’’

Advertisement

সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকাকে একটি মডেল হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলতা মডেল হয়তো...।’’ রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বলা হয়েছে, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পে বিধানসভার সদস্যেরা নিজ-নিজ নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক উন্নয়নের কাজের বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করতে পারবেন। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি কাজের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ। সে জন্য এমএলএ ফান্ডের পরিমাণ বছরে সত্তর লক্ষ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী। তার পরেই এসেছে ফলতা প্রসঙ্গ। বলা হয়েছে, ফলতা এলাকাকে একটি মডেল ব্লক হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি সরকার। প্রথম ধাপে ফলতাবাসীকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে প্রধান ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (বিপিএইচসি)-কে ১০০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। কম্প্রিহেনসিভ এমার্জেন্সি অবস্ট্রেটিক কেয়ার বা সামগ্রিক জরুরি প্রসূতি সেবার বন্দোবস্ত থাকবে সেই হাসপাতালে। যার ফলে প্রসূতিদের আর দূরের হাসপাতালে যেতে হবে না। তা ছাড়া ফলতায় মহিলা কলেজ তৈরি হবে বলেও ঘোষণা করা হল সোমবার।

এই দুই ঘোষণা অবশ্য গত সপ্তাহেই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ফলতা থানায় মহিলাদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক তৈরি করে আরও মহিলা পুলিশ আধিকারিককে নিয়োগ করার কথা বলেছিলেন তিনি। গত বুধবার ফলতার ফতেপুর ফুটবল গ্রাউন্ডে জনকল্যাণ শিবিরের অনুষ্ঠান থেকে ফলতার জন্য সরকারের একাধিক পরিকল্পনার কথা ঘোষণার সময় শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘ফলতাকে মডেল বিধানসভা গড়ে তুলব। এখানকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বন্দরভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠবে। মহিলা কলেজ এবং দমকল কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ফলতা ব্লক হাসপাতালকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।’’ স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, হাসপাতালের জন্য নতুন করে ভবন তৈরি হবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করে ডিপিআর সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।

অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম অংশ ছিল স্বাস্থ্যক্ষেত্র। নিজের লোকসভা কেন্দ্রে তিনি বিশেষ রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। ‘সেবাশ্রয়’ ছিল তেমনই এক উদ্যোগ। কিন্তু ফলতার ব্লক হাসপাতাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা অভাব-অভিযোগ ছিল। অভিযোগ ছিল, রোগীর অবস্থা খানিক গুরুতর হলেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে ডায়মন্ডহারবার মেডিক্যাল কলেজে ‘রেফার’ করে দিতেন চিকিৎসকেরা। এ বার সেই পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশাবাদী ফলতাবাসী।

ফলতার পুনর্নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে তীব্র ভাবে বিঁধেছিলেন শুভেন্দু। সেখানেই ঘোষণা করেছিলেন ফলতার জন্য তাঁর সরকারের ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’ থাকছে। বদলে লক্ষাধিক ভোটে জেতাতে বলেছিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশুকে।

ভোটের ফল তা-ই হয়েছে। ভোটের আগে ময়দান ছেড়়ে দেওয়া জাহাঙ্গির এখন কারাগারে বন্দি। বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকে বহুল আলোচিত সেই ফলতার নাম বাজেটেও আলাদা করে উল্লেখ করল বিজেপি সরকার। সোমবার ফলতার বিধায়ক দেবাংশু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন। বাজেটেও তা-ই মিলল। ফলতার জন্য প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে। সেখানে মহিলা থানা, ফায়র ব্রিগেড, মহিলা কলেজ যেমন রয়েছে, তেমনই আছে নদীভাঙন রোখার প্রকল্প। এত দিন এগুলো আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ যে উনি ফলতাকে এতটা গুরুত্ব দিয়েছেন।’’

Advertisement
আরও পড়ুন