শুয়ে শুয়ে এক আসন করলেও মানসিক চাপ কমবে। চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।
রোজের ব্যস্ততায় নাকে-মুখে গুঁজেই ছুটতে হয় অফিস। বাড়ি ফিরেও সংসারের নানা কাজ। তার উপরে যাতায়াতের পরিশ্রম তো আছে। শরীরে যেমন ক্লান্তি বাড়ছে, তেমন মনের উপরেও। অত্যধিক ধকলে শরীর ও মনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। অতিরিক্ত উদ্বেগ মনকে আরও ক্লান্ত-অবসন্ন করে তোলে। তার উপরে হাজারো অসুখবিসুখ তো আছেই। আজ গ্যাস-অম্বলের সমস্যা তো কাল পায়ে ব্যথা। এ দিকে নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করতেও অনীহা। যদি শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করতে হয়, তা হলে সহজ এক যোগাসন আছে। এটি করতে লম্ফঝম্ফ করার প্রয়োজন নেই। শুয়েই করা যাবে এই আসন।
যোগাসনটির নাম মৎস্যক্রীড়াসন। যোগাসন প্রশিক্ষকেরা বলেন, ‘ফ্ল্যাপিং ফিশ পোজ়’। এই আসনটি নিয়মিত অভ্যাস করলে শরীরের বিশ্রাম হবে। শরীর ও মন প্রশান্ত হবে।
কী ভাবে করবেন?
১) উপুড় হয়ে ম্যাটের উপর শুতে হবে। শরীর শিথিল রাখতে হবে।
২) দুই হাতের কনুই ভাঁজ করে হাতের পাতা মাথার নীচে রাখতে হবে। মাথা আরামদায়ক ভাবেই থাকবে। অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৩) এ বার বাঁ পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে বুকের কাছে আনুন। ডান পা সোজা রাখতে হবে।
৪) বাঁ হাতের কনুই ও হাঁটু যতটা সম্ভব কাছাকাছি আনার চেষ্টা করুন।
৫) চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন ও এই অবস্থায় কিছু ক্ষণ বিশ্রাম নিন।
৬) এ বারে দিক পরিবর্তন করে আসনটি আবার করুন। প্রয়োজন হলে মাথার নীচে ও হাঁটুর নীচে বালিশ রাখতে পারেন।
উপকারিতা:
যোগাসনটি অভ্যাস করলে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমে যাবে।
সারা শরীরের বিশ্রাম হবে, মানসিক চাপ কমবে।
গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমবে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।
পায়ের স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়বে, পেশির আরাম হবে।
নিয়মিত আসনটি অভ্যাসে অতিরিক্ত উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দূর হবে।
অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে, ঘুম ভাল হবে।
কারা করবেন না?
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি না করাই ভাল।
ঘাড়ে বা কাঁধে আঘাত থাকলে বা অস্ত্রোপচার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি করা যাবে না।