ভুঁড়ি কমবে, অম্বল দূর হবে, আসনের পদ্ধতিও সহজ। চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।
সহজ আসন। উপকারিতাও অনেক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই আসনটির উপকারিতার কথা বলেছিলেন। নতুন যোগাসন শুরু করেছেন যাঁরা, তাঁদের জন্যও উপযোগী এই আসন। এর ভঙ্গিমা অনেকটা বিড়ালের মতো। তাই নাম মার্জারাসন। যে কোনও বয়সে ও যে কোনও সময়ে অভ্যাস করা যায় এই আসন। তলপেটের মেদ কমানো থেকে শুরু করে, হজমশক্তি ভাল করা, পায়ের ব্যথা কমানো এবং মেরুদণ্ড নমনীয় রাখতে আসনটি জুড়ি মেলা ভার। যে শিশুরা প্রায়ই সর্দি-কাশি বা পেটের সমস্যায় ভোগে, মনঃসংযোগের অভাব রয়েছে, তাদেরও আসনটি অভ্যাস করাতে পারেন বাবা-মায়েরা।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গি করুন। দুই হাতের তালু মাটিতে থাকবে। দুই হাঁটুর মাঝে দূরত্ব রাখতে হবে।
২) দুই ঊরু ও হাত যেন সমান্তরাল অবস্থায় থাকে। এই ভঙ্গিমায় গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। এতে মন স্থির হবে।
৩) এ বার শ্বাস নিতে নিতে মাথা উপরে তুলতে হবে। পেটের দিক কিছুটা নেমে যাবে ও পিঠ অবতল হয়ে থাকবে। অর্থাৎ, পিঠ বাঁকাতে হবে ও গলায় টান পড়বে। এই অবস্থান কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন।
৪) শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পিঠ উঁচু করুন। মাথা নামাতে হবে, চোখ থাকবে পেটের দিকে। পেট টেনে ভিতরের দিকে ধরে রাখতে হবে। এই ভাবে এক রাউন্ড সম্পূর্ণ হবে।
৫) পর্যায়ক্রমে দুই ভঙ্গিই করে যেতে হবে ৫-৭ বার। প্রতি অবস্থানে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।
উপকারিতা:
পেটের খুব ভাল স্ট্রেচিং মার্জারাসন। এটি রোজ অভ্যাসে ভুঁড়ি কমে যাবে।
পিঠের ব্যথা কমবে, স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যা থাকলে তারও নিরাময় হবে।
মেরুদণ্ড নমনীয় হবে আসনটি অভ্যাসে, যাঁদের কুঁজো হয়ে হাঁটার অভ্যাস আছে, তাঁরা নিয়মিত আসনটি করতে পারেন।
ঋতুচক্রের সময়ে পেটে অস্বাভাবিক ব্যথা হলে, আসনটি অভ্যাস করতে পারেন।
মার্জারাসন অভ্যাসে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে।
আসনটি অভ্যাসে গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমবে, হজমশক্তি ভাল হবে।
কারা করবেন না?
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি করা যাবে না।
হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করবেন না।