পায়ের পেশির জোর বাড়বে, সায়াটিকার ব্যথা কমবে, কোন আসন অভ্যাস করবেন? চিত্রাঙ্কন: শৌভিক দেবনাথ।
বয়স চল্লিশ পেরোলে শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হয়। সেই সময়ে পেশির ব্যথা, অস্থিসন্ধির ব্যথা বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় অনেক মহিলার ক্ষেত্রেই। বাতের ব্যথা-বেদনাও ভোগায়। তাই ওই সময়টাতে নিয়ম করে শরীরচর্চা করা জরুরি। বিশেষ করে পায়ের কিছু ব্যায়াম, আসন ও স্ট্রেচিং করা ভাল। এতে পায়ের পেশি শক্তপোক্ত ও মজবুত হবে। অল্পে আঘাত লাগবে না এবং ব্যথা-বেদনাও দূরে থাকবে।
ভেরিকোজ় ভেনের সমস্যাও খুব ভোগায়। প্রাত্যহিক জীবনে যাঁদের পায়ে অত্যন্ত চাপ পড়ে, তাঁদের পায়ের শিরায় এক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে পায়ের শিরা ফুলে গিয়ে গাঢ় নীলচে রঙের রেখা চামড়ার উপরে ফুটে ওঠে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেও যোগাসন অভ্যাস করা জরুরি। যোগ প্রশিক্ষকেরা বলছেন, রোজ নটরাজাসন অভ্যাসে পেশির জোর বাড়বে, হার্ট ও কিডনির সমস্যাও দূরে থাকবে।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। কোমর, পিঠ যেন টান টান থাকে।
২) ডান হাঁটু ভাঁজ করে যতটা সম্ভব পিছন, অর্থাৎ পিঠের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ডান হাতটি ডান কানের পাশ দিয়ে কাঁধের উপর তুলুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে।
৩) শরীরের ভঙ্গি এমন হবে যাতে ডান পায়ের পাতা বা বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ ডান হাত দিয়ে ধরা যায়। শরীরের ভারসাম্যও সেই মতো রাখতে হবে।
৪) পুরো শরীরের ভার থাকবে বাঁ পায়ের উপর।
৫) এই ভঙ্গিমায় থাকতে হবে ৩০ সেকেন্ড। তার পর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।
উপকারিতা:
এই আসন অভ্যাসে কাঁধ, পিঠ ও পায়ের পেশির জোর বৃদ্ধি হবে।
সায়াটিকার ব্য়থা কমবে, পায়ের পেশির জোর বাড়বে।
সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, শরীরের ভারসাম্য বাড়বে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে নটরাজাসন।
নিয়মিত অভ্যাসে মনঃসংযোগ বৃদ্ধি হবে।
কারা করবেন না?
হার্টের সমস্যা কিংবা অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের সমস্যা থাকলে এই আসন করা যাবে না।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি না করাই ভাল।
ভার্টিগো বা মাথা ঘোরার প্রবণতা থাকলেও আসনটি করবেন না।