Ozempic vs Oatzempic

ওজ়েম্পিকের বিকল্প ওটজ়েম্পিক? সস্তা ও সহজলভ্য পথ্যটিতে মজেছেন অনেকে, নামে যতটা মিল, কাজেও কি তাই?

ওজ়েম্পিকের বিকল্প কি তবে এসে গেল? দামি ওষুধটি ওজন কমায় ঠিকই, তবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়। ইদানীংকালে নানা অভিযোগও উঠে এসেছে ওষুধটি নিয়ে। তাই এর স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে অনেকেই বেছে নিচ্ছে ওটজ়েম্পিক। নামে যতটা মিল, কাজেও কি ততটাই?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১৫:২১
What is Oatzempic, the Viral Social Media Trend Challenging the Magic Weight-Loss Pill

ওটজ়েম্পিক কি ওজ়েম্পিকের বিকল্প, নামে যতটা মিল, কাজেও কি ততটাই? ফাইল চিত্র।

ওজন কমানোর ওষুধ ওজ়েম্পিকের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচিত। টিভি তারকা থেকে রুপোলি পর্দার অভিনেতারা— ওজ়েম্পিকের গুণে অনেকেই ওজন কমিয়ে ছিপছিপে হয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। সেই ধারায় গা ভাসিয়ে এখন সাধারণ মানুষজনও গাঁটের কড়ি খসিয়ে চটজলদি ওজন কমাতে ওজ়েম্পিকের মতো ওষুধে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ওজন কমানো— এই দুই কাজের জন্যই ওজ়েম্পিকের এত জনপ্রিয়তা। তবে ওষুধটি নিয়ে অভিযোগও কম নেই। এর যা যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর শোনা গিয়েছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ। সে কারণে ওজ়েম্পিকের জনপ্রিয়তায় যে কিঞ্চিৎ ভাটা পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। সে জায়গায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ওটজ়েম্পিক। দামে কম, সহজলভ্য পথ্যটিতে এখন ভরসা করছেন অনেকেই। দাবি করা হয়েছে, ওজ়েম্পিকের মতোই ওজন কমাতে পারদর্শী ওটজ়েম্পিক, নামে যেমন মিল, কাজেও না কি ঠিক তেমনই।

Advertisement

কী এই ওটজ়েম্পিক?

ওষুধ নয়, পথ্য। ওজ়েম্পিকের সমনামী ওটজ়েম্পিক আসলে ওট্‌স ও লেবুর রসের পানীয়। কোনও রকম রাসায়নিক নেই তাতে। ঘরে তৈরি এমন এক শরবত, যা রোজ সকালে জলখাবারের সঙ্গে খেলে ওজন কমতে বাধ্য বলে দাবি করা হয়েছে। আসলে ওট্‌স খেতে এখন পছন্দ করছেন বাঙালিরাও। জলখাবারে লুচি-তরকারি, রুটি বা নিদেনপক্ষে পোহা খাওয়া বাঙালির অন্দরমহলেও এখন ঢুকে পড়েছে ওট্‌স, কিনোয়ার মতো দানাশস্য। ফাইবারে ভরপুর ওট্‌স পেট অনেক ক্ষণ ভর্তি রাখে, ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করে বলেই এর জনপ্রিয়তা বেশি। কর্নফ্লেক্সের জায়গায় অনেকেই এখন ওট্‌স খাওয়া বেশি পছন্দ করেন। এ হেন ওট্‌স দিয়েই তৈরি করে ফেলা যায় ওটজ়েম্পিক।

নানা রকম ভাবে বানানো যায় ওটজ়েম্পিক।

নানা রকম ভাবে বানানো যায় ওটজ়েম্পিক।

তৈরির পদ্ধতি

আধ কাপ ওট্‌স, এক গ্লাস জল ও পাতিলেবুর রস নিতে হবে। একসঙ্গে ব্লেন্ড করলেই তৈরি হয়ে যাবে ওটজ়েম্পিক। স্বাদ বৃদ্ধিতে অনেকেই এর সঙ্গে মেশাচ্ছেন দারচিনির গুঁড়ো, পুদিনাপাতা এবং নানা ধরনের ফল ও বাদাম। জলখাবারে পাউরুটি বা রুটি-পরোটার বদলে ওটজ়েম্পিকই পছন্দের খাবার হয়ে উঠেছে অনেকের।

নামে যতটা মিল, কাজেই কি তাই?

ওজ়েম্পিকের সঙ্গে মিলিয়ে নামটি রাখা হয়েছে বটে, তবে উভয়ের কার্যপদ্ধতি একেবারেই আলাদা। ওজ়েম্পিক একধরনের সেমাগ্লুটাইড। জিএলপি-১ গোত্রের ওষুধ। অর্থাৎ, জিএলপি-১ হরমোনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে খিদে কমায়। অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে জিএলপি-১ হরমোন বার হয়। এর কাজ হল বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা, হজমে সাহায্য করা এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়িয়ে ফেলা। এই হরমোনটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও ওজন বাড়বে না। ওজ়েম্পিক সে কাজটিই করে। জিএলপি-১ হরমোনকে সক্রিয় করে তুলেই ওজন কমায়।

কিন্তু ওটজ়েম্পিক তা করে না। কারণ এটি কোনও ওষুধ নয়। হরমোনের উপর এর নিয়ন্ত্রণ নেই। এর কাজ হল দীর্ঘ সময়ে পেট ভরিয়ে রাখা ও ফাইবারের জোগান দেওয়া। ওটজেম্পিক খেলে বার বার খিদে পায় না, ফলে জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেলার প্রবণতাও কমে।: সকালে যাঁদের রান্নার সময় থাকে না অথবা সারা দিনে ঠিকমতো ডায়েট মেনে চলা সম্ভব হয় না, তাঁরা যদি ওটজ়েম্পিক খান, তা হলে পুষ্টির ঘাটতি হবে না। রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ওট্‌সের বিটা-গ্লুকান খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কাজেই উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে ওটজ়েম্পিক নিশ্চিন্তেই খাওয়া যাবে। কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় থাকবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন