Cancer Diagnosis Rule

ক্যানসার শনাক্তকরণে দেরি হলেই বিপদ! আর তাই ‘দু’সপ্তাহের নিয়ম’ মেনে চলার পরামর্শ চিকিৎসকদের

কখনও কখনও ক্যানসারের উপসর্গ এতই সূক্ষ্ম এবং অন্য রোগের মতো হয় যে, রোগীরা উপেক্ষা করে ফেলেন। তবে এই সমস্যাকে খানিক পরিমাণ কমাতে পারে বিশেষ এক কৌশল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ২০:১৩
রোগ শনাক্ত করার নিয়ম।

রোগ শনাক্ত করার নিয়ম। ছবি: সংগৃহীত।

ক্যানসারের মতো রোগের সঙ্গে যুঝতে হলে সচেতনতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। যত আগে শনাক্ত করা যাবে, ততই সহজ হবে চিকিৎসা ও নিরাময়। এমনই এক সূত্রে বাঁধা রয়েছে ক্যানসারের সঙ্গে রোগীর সম্পর্ক। তবে সমস্যা শুরু হয় সেখানেই। কখনও কখনও ক্যানসারের উপসর্গ এতই সূক্ষ্ম এবং অন্য রোগের মতো হয় যে, রোগীরা উপেক্ষা করে ফেলেন। তবে এই সমস্যাকে খানিক পরিমাণ কমাতে পারে বিশেষ এক কৌশল। আর তা হল, ‘দু’সপ্তাহের নিয়ম’।

Advertisement

শরীরের কোনও উপসর্গ যদি দু’সপ্তাহের বেশি থাকে বা ওষুধ খেলেই শুধু সাময়িক ভাবে কমে— তা হলে সেটিকে আর অবহেলা করা উচিত নয়। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ-ই হল ‘দু’সপ্তাহের নিয়ম’। এর ফলে রোগ তুলনামূলক ভাবে দ্রুত শনাক্ত করা যেতে পারে।

কখন কী ভাবে সতর্ক হবেন?

কখন কী ভাবে সতর্ক হবেন? ছবি: সংগৃহীত

ধরা যাক, কাশি, জ্বর, গলার স্বর পরিবর্তন, ইত্যাদি দু’সপ্তাহ পরেও কোনও ভাবে উপশমের দিকে এগোচ্ছে না, তা হলে সতর্ক হতে হবে। গলার স্বর কর্কশ হয়ে যাওয়ার পর যদি দু’সপ্তাহ ধরে না সারে, তা হলে থাইরয়েড, ফুসফুস বা গলার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত বা কোনও ব্যথাহীন স্ফীতি দেখা গেলেও মনোযোগ দিতে বলছেন চিকিৎসকেরা। গলা, বাহুমূলের মতো জায়গার কোনও অংশ ফুলে গেলে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত দু’সপ্তাহ দেখার পর। তা ছাড়া যদি আঁচিলের রং বা আকার পরিবর্তন অথবা তা থেকে রক্তপাত হতে দেখা যায়, সেটিও ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। অথবা ধরা যাক, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে পেটফাঁপা, বদহজম, অম্বলের সমস্যায় ভুগছেন, ওষুধ খেয়েও কমছে না, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

মহিলাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কারণ, ডিম্বাশয়, জরায়ু বা স্তন ক্যানসারের কিছু উপসর্গ, যেমন পেটফাঁপা, অস্বাভাবিক ঋতুস্রাব বা ক্লান্তি, অনেক সময়ে সাধারণ হরমোনজনিত সমস্যা বলে ধরে নেওয়া হয়। ফলে চিকিৎসায় দেরি হয়ে যায়।

তবে চিকিৎসকদের বক্তব্য, এই সব উপসর্গের অনেকগুলিই অন্য সাধারণ কারণেও হতে পারে। তাই সর্বদাই দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই। দু’সপ্তাহের কাশি মানেই ক্যানসার, এমন নয়। বরং স্থায়িত্ব বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। সাধারণ ভাইরাল জ্বর, হালকা সংক্রমণ বা সামান্য শারীরিক গোলমাল সাধারণত এই সময়ের মধ্যে কমে যায়। কিন্তু কোনও সমস্যা যদি একই ভাবে থেকে যায়, তা হলে শরীর হয়তো অন্য কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর সে বিষয়েই সতর্ক হওয়ার কথা বলা হচ্ছে এই নিয়মে।

Advertisement
আরও পড়ুন