Nutritional Diet

খাবার যখন ওষুধ

ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে নিউট্রাসিউটিক্যালস ডায়েট। জেনে নিন এই খাদ্যাভ্যাসের সুবিধা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:০২

মধুমেহ, উচ্চ রক্তচাপ, বাড়তি ওজন নানা কারণে নিয়মের বেড়াজালে বাঁধা খাদ্যতালিকা। ডায়েট করতেই হবে— চিকিৎসকের কড়া হুকুম মানেই বিস্বাদ খাবারের ভাবনায় মন খারাপ। ডায়েট মানেই যেন খাবারতালিকা থেকে ভাত, রুটি বাদ। মিষ্টিতে কড়া নজরদারি। তবে ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অনন্যা ভৌমিক বলছেন, “খাবার থেকে যেমন অনেক শারীরিক সমস্যার সূত্রপাত, তেমন তা ওষুধও হতে পারে। প্রয়োজন শুধু পুষ্টিগুণ বুঝে খাওয়া।”

নিউট্রাসিউটিক্যালস ডায়েট কী?

‘নিউট্রিশন’ এবং ‘ফার্মাসিউটিক্যাল’ এই শব্দ দু’টি থেকে নিউট্রাসিউটিক্যালস ডায়েট কথাটির উৎপত্তি। এই ডায়েটে সেই সব খাদ্য-উপাদানের উপরে জোর দেওয়া হয়, যা খাবার হিসেবেও কাজ করে, আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাতেও সহায়ক। ১৯৮৯ সাল নাগাদ প্রখ্যাত চিকিৎসক এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজিস্ট স্টিফেন এলডি ফেলিসের হাত ধরে এই ডায়েটের জন্ম। পুষ্টিবিদ কোয়েল পালচৌধুরী বলছেন, “এই ডায়েটে থাকে প্রাকৃতিক পুষ্টিকর খাবার, যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিনস, মিনারেলস, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস রয়েছে। মূলত ভেষজ, উদ্ভিদজাত, প্রোবায়োটিক জাতীয় খাবার এই ডায়েটের আওতায় পড়ে। খাবারকে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহার করাই এই ডায়েটের মূল লক্ষ্য। ফাংশনাল ফুডস, সাপ্লিমেন্টস, হার্বাল নিউট্রাসিউটিক্যালস এবং ফর্টিফায়েড ফুডস এই চার ধরনের খাবার এই ডায়েটে থাকে।”

  • ফাংশনাল খাবার যেমন, দইয়ে প্রোবায়োটিকস থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। রসুনে থাকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, তা হৃৎপিণ্ড ভাল রাখে। হলুদে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ প্রদাহনাশক। গ্রিন-টি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ। ওটসে বিটা-গ্লুকান থাকে, যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন সি, ওমেগা থ্রি, ম্যাগনেশিয়াম, কোলাজেন, প্রোটিন পাউডার ইত্যাদি যা কিছু খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া হয়, তা হল ডায়াটরি সাপ্লিমেন্টস।
  • হার্বাল নিউট্রাসিউটিক্যালস হল সেই সমস্ত উদ্ভিদ, যার নিজস্ব গুণ রয়েছে যেমন নিম, অশ্বগন্ধা, তুলসী ইত্যাদি।
  • ফর্টিফায়েড ফুডস হল এমন খাবার যাতে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান যোগ করা হয়, যেমন, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ, আয়রন সমৃদ্ধ সিরিয়াল ইত্যাদি।

এই ধরনের ডায়েটে রাখতে পারেন মাল্টিগ্রেন রুটি, পালং শাক, ব্রকোলির মত আনাজ, দই, বিভিন্ন ধরনেরবাদাম, চিয়া, তিসি, কুমড়োর বীজ, আঙুর, আমলকি, ডালিম, পেঁপে ইত্যাদি ফল।

উপকার কী?

হলুদ, গ্রিন-টি, ওমেগা থ্রি ইত্যাদি শরীরের প্রদাহ কমায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিউট্রাসিউটিক্যালস ডায়েট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স কমিয়ে মধুমেহ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মতো শারীরিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। ওজনকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। খাদ্যতালিকায় অধিক পরিমাণে প্রোবায়োটিকস এবং ফাইবার থাকায় অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল থাকে, হজমে সহায়ক। পিসিওএস, বন্ধ্যাত্ব, মেনোপজ়ের সমস্যাতেও এই ডায়েট উপকারী। সঙ্গে ত্বকের জেল্লা বাড়ায়, চামড়া টানটান রাখে। স্ট্রেস কমাতেও এই ডায়েট কার্যকর।

তবে খেয়াল রাখবেন দীর্ঘমেয়াদে এই ডায়েট কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট হরমোনাল ব্যালান্স নষ্ট করতে পারে। তাই এই ডায়েট করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

আরও পড়ুন