ছবি: সংগৃহীত।
বয়স ৫০ পেরোলেই হাঁটুর ব্যথা কাবু করছে অনেককে। ফলে চিন্তা বাড়ছে, তবে কি হাঁটু প্রতিস্থাপন করতে হবে? সেই দুশ্চিন্তায় ভোগার আগে কয়েকটি বিষয় জেনে নেওয়া ভাল। বয়স বাড়লে হাঁটু ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ বিষয়, যা মূলত অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে হয়ে থাকে। তবে সব ব্যথা যেমন অস্ত্রোপচারের কথা বলে না, তেমনই কিছু কিছু ব্যথার বৈশিষ্ট্য দেখলে কাল বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেই ভাল। কয়েকটি লক্ষণ তাই চিনে রাখুন। তেমন কিছু দেখলে অবশ্যই একজন হাড়ের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১. অস্থিসন্ধি যদি ফুলে যায় বা লাল হয়ে যায়
যদি দেখেন হাঁটুর চারপাশ অস্বাভাবিক ফুলে গেছে, গরম হয়ে আছে বা লালচে আভা দেখা দিচ্ছে, তবে এটি ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ অথবা ভিতরে কোনো সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
২. ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
হাঁটতে গেলে যদি মনে হয় হাঁটু শরীরকে ধরে রাখতে পারছে না বা হঠাত্ আটকে যাচ্ছে, তবে বুঝতে হবে হাড় বা পেশিতন্তু অর্থাৎ লিগামেন্টের সমস্যা। এমন হলে পড়ে যাওয়ার এবং বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
৩. বিশ্রামের সময়ও তীব্র ব্যথা
সাধারণত কাজ করলে হাঁটু ব্যথা বাড়ে, কিন্তু যদি দেখেন রাতে ঘুমোনোর সময় বা পুরোপুরি বিশ্রামে থাকলেও হাঁটুতে চিনচিন করে ব্যথা হচ্ছে, তবে দেরি করা ঠিক হবে না।
৪. হাঁটু সোজা বা পুরোপুরি ভাঁজ করতে না পারা
যদি হাঁটুর নাড়াচাড়া করার ক্ষমতা কমে যায়—অর্থাৎ পা পুরোপুরি টানটান করতে বা মুড়তে কষ্ট হয়, তবে আপনার চিকিৎসকের সাহায্য প্রয়োজন।
৫. শব্দ হওয়া এবং তীব্র যন্ত্রণা
হাঁটু ভাজ করার সময় যদি ‘কটকট’ শব্দ হয় এবং সেই সঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা অনুভূত হয়, তবে এটি হাড়ের ঘর্ষণ বা কার্টিলেজ ক্ষয়ের বড় লক্ষণ। তা হলেও চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত।
কয়েকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—
১। শরীরের অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করে।
২। ব্যথা হলে সাময়িক আরামের জন্য গরম সেঁক বা বরফ দেওয়া যেতে পারে। তবে সেটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে করুন।
৩। নরম সোলযুক্ত আরামদায়ক জুতো পরুন।