স্বামী শোয়েবের সঙ্গে অভিনেত্রী দীপিকা কক্কর। ছবি: সংগৃহীত।
লিভার ক্যানসার ধরা পড়ার পরে জীবন বদলে গিয়েছে হিন্দি টেলিভিশনের অভিনেত্রী দীপিকা কক্কড়ের। নানা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে অনেকটাই সুস্থ তিনি। দীপিকার স্বামী শোয়েব ইব্রাহিম মাঝেমধ্যেই দৈনন্দিন জীবনের কথা, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন সমাজমাধ্যমে। সম্প্রতি শোয়েবকে দেখা গিয়েছে পরিবারের জন্য শিঙাড়া বানাতে। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, হেঁশেল থেকে সব ননস্টিক বাসন সরিয়ে ফেলেছেন। শুধু একটাই রয়েছে, সেটায় অমলেট তৈরি করেন।
ধরে নেওয়া যায়, দীপিকা ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পরে কক্কড় পরিবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কম তেলে এবং সহজে রান্নার জন্য ননস্টিকের বাসন পছন্দ করেন অনেকেই। কিন্তু ননস্টিক কি এতটাই ক্ষতিকর? এমস এবং হার্ভার্ডে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক সৌরভ শেট্টি সমাজমাধ্যমে পরামর্শ দিয়েছেন পুরনো এবং চটে যাওয়া ননস্টিকের বাসন ব্যবহার না করার। কারণ তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
এই বাসন কি বাদ দেওয়া দরকার? হায়দরাবাদের অভিজ্ঞ পেটের রোগের চিকিৎসক ডি চন্দ্রশেখর রেড্ডি জানাচ্ছেন, আধুনিক এবং ভাল মানের ননস্টিক বাসন সঠিক কৌশলে ব্যবহার করলে ভয়ের কিছু নেই। রোজ ব্যবহার করাও নিরাপদ। ননস্টিক বাসনের আস্তরণ তৈরি হয় পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন বা (পিটিএফই) দ্বারা। উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না না করলে এই বাসন নিরাপদ। সব্জি, প্যান কেক, অমলেট রান্না করলেও সমস্যা নেই। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, কড়াই যদি পুরনো হয়ে যায়, ননস্টিকের আস্তরণ ক্ষয়ে যেতে শুরু করে, তখন তা আর নিরাপদ থাকে না। বিশেষত ননস্টিক প্যানে খুব বেশি আঁচে রান্না (২৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এর বেশি) করলে প্রচণ্ড ধোঁয়া উঠতে শুরু করে, তা ক্ষতিকর। বেশি গরমে কড়াইয়ের আস্তরণও নষ্ট হতে শুরু করে। তা খাবারে মিশলেই বিপদ। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, কিছু কিছু ননস্টিক বাসনে আগে পিএফওএ-ব্যবহার করা হত। এগুলি ক্ষতিকর বলেই এখন তা বাদ দেওয়া হচ্ছে।
কী ভাবে ব্যবহার করবেন ননস্টিকের বাসন
· পুরনো ননস্টিকের বাসনের আস্তরণ উঠতে শুরু করলে তা বাদ দেওয়া দরকার।
· রান্নার জন্য কাঠের খুন্তি উপযুক্ত, ধাতব খুন্তির ঘষায় আস্তরণ উঠে যেতে পারে।
· বেশি আঁচে রান্না না করাই ভাল।