(বাঁ দিকে) ‘মা’ শিখা চট্টোপাধ্যায়। ‘পুত্র’ রঞ্জন শীল শর্মা (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।
সহকর্মী কখনও বন্ধু হন না— এমন দর্শন আকছার শোনা যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রেই মা-ছেলের মতো বন্ধন তৈরি করেছেন বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা রঞ্জন শীল শর্মা। তখন অবশ্য দু’জনেই তৃণমূলে ছিলেন। আজ ‘ভোটের ফেরে’ সেই ‘মা-ছেলে’ই হয়ে গেলেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী! এই বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা প্রত্যক্ষ করবে ‘মা-ছেলের’ লড়াই।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে এই নিয়ে দু’বার বিজেপির টিকিট পেয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক শিখা। তাঁর গত বারের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তথা গৌতম দেবকে এ বার শিলিগুড়ি থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে রঞ্জনকে। যা নিয়ে শোরগোল ওই বিধানসভায়।
বুধবার কলকাতা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছোয় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ। ট্রেন থেকে রঞ্জন নামতেই উচ্ছ্বসিত কর্মীরা ঘিরে ধরেন। ফুলের মালা গলায় পরে জয়ের আগেই ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্ন দেখিয়ে তৃণমূল প্রার্থী বার্তা দেন, মা-মাটি-মানুষের হয়ে ‘মায়ের’ কাছ থেকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি পুনরুদ্ধার করবেন তিনি। স্টেশন থেকে বাইরে হাঁটতে হাঁটতে ‘মায়ের’ সমালোচনাও শোনা গেল ‘ছেলের’ মুখে। রঞ্জন জানালেন, এ বার ভোটে জিতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িকে পুরসভা করবেন।
ভোট-যুদ্ধের আঁচ কি তাঁদের এত দিনকার সম্পর্ক নষ্ট করবে? রঞ্জনের জবাব, ‘‘অনেক বছর ধরে শিখা চট্টোপাধ্যায়কে আমি ‘মা’ বলে ডাকি। এখনও ভোটের প্রচারে নামিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়ে তবেই প্রচারে বেরব।’’ তার পরেই বিধায়ক ‘মায়ের’ বিরুদ্ধে অনুযোগ করেন রাজনীতিবিদ ‘পুত্র’। তাঁর কথায়, ‘‘আমার লক্ষ্য, এই কেন্দ্রকে পুরসভা করার। যিনি বিধায়ক ছিলেন (মা), তিনি কোনও দিনই বিধানসভায় নিজের কেন্দ্র নিয়ে কিচ্ছু বলেনি। তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক একই থাকবে। আমার লড়াই কেবল উন্নয়ন আর মতাদর্শের। মানুষ যে ভাবে রাস্তায় নেমেছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে আগে যিনি বিধায়ক ছিলেন, তিনি কোনও কাজ করেননি।’’
‘বিরোধী পুত্রের’ অভিযোগের জবাব দিয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক ‘মা’। শিখার কথায়, ‘‘ওর সঙ্গে আমার অনেক পুরনো সম্পর্ক। ব্যক্তিগত সম্পর্ক একই থাকবে। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ব না। আমরা (বিজেপি) কী কাজ করেছি, তার প্রমাণ তো ভোটবাক্সে দেবেন মানুষ।’’
ফুলবাড়ি-ডাবগ্রাম এ বার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখবে, বলছেন ভোটাররাই। শিখার কথা মতো, সেটা ফলেই জানা যাবে। তবে রাজনীতির ময়দানে অবিরত কূকথার স্রোতে শিখা-রঞ্জনের সম্পর্ক মা-ছেলের মতোই থাকে কি না, সেটাও দেখার।