অনুগামীদের মাঝে ‘বঞ্চিত’ তাজমুল হোসেন। —নিজস্ব ছবি।
প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘যাঁরা টিকিট পেলেন না, তাঁরা যেন ভুল না বোঝেন।’’ নির্বাচনের পরে দলে তাঁদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেবেন। কিন্তু ‘মমতাবার্তা’ কানে নিচ্ছেন না ‘বঞ্চিতরা’। কেউ কাঁদছেন, কেউ রাগে রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ নেওয়ার কথা ঘোষণা করছেন, কেউ আবার নির্দল হয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। একই ছবি দেখা গেল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। টিকিট না-পেয়ে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের নির্ঘোষ, ‘‘তৃণমূলকে এর ফল ভুগতে হবে।’’
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই হরিশ্চন্দ্রপুরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। মন্ত্রী তাজমুলের বদলে এ বার ওই কেন্দ্রে মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেছেন মতিউর রহমানকে। ২০২১ সালে যিনি বিজেপির টিকিটে হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মতিউরের নাম ঘোষণার পর হতবাক তিন বারের বিধায়ক তাজমুল। তাঁর দাবি, একনিষ্ঠ ভাবে দল করেছেন। কিন্তু তাঁকে বঞ্চিত করা হল। বুধবার দুপুরে অনুগামীদের নিয়ে বাসভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি তো ভেবেই উঠতে পারছি না! ১৫ বছর ধরে একনিষ্ঠ ভাবে দল করলাম। আর কেউ হঠাৎ করে এসে টিকিট পেয়ে যাবেন!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী যিনি হলেন, তিনি পার্টির ‘প’ জানেন না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র নেই। আর দল তো আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এর ফল ভুগতে হবে।’’ তিনি কর্মীদের নিয়ে মিটিং-ও করে ফেলেছেন। সেখানে নিজেকে বঞ্চিত বলে তৃণমূল প্রার্থীর কথা বলতে বলতে কেঁদেও ফেলন।
তাজমুলের অনুগামী তথা তৃণমূল কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, এর জন্য ‘দায়ী’ দলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক। হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার টিকিট ‘মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি’ হয়েছে।
মালদহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ এবং সিদ্ধান্তই শিরোধার্য। মতিউরের প্রচারে সকলে মিলে ঝাঁপাবেন। কর্মীদের সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদিও বিদায়ী বিধায়কের অনুগামী এবং তৃণমূল কর্মীদের বড় অংশই বেঁকে বসেছেন।