Migraine Remedies

গরমে মাইগ্রেনের সমস্যা তুঙ্গে? মাথা যন্ত্রণার তীব্রতা কমানোর জন্য ১৩টি কৌশল মেনে চলতে পারেন

অতিরিক্ত তাপ, জলশূন্যতা, ঘুমের অনিয়ম এবং রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, এ সবই মাইগ্রেন অ্যাটাককে বাড়িয়ে দিতে পারে। মাইগ্রেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে গরমের সময়ে কিছু নিয়ম মেনে চললে হয়তো তীব্রতা খানিক কমানো যেতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১৬:১৩
মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন?

মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন? ছবি: সংগৃহীত।

গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকলেই মাইগ্রেনের যন্ত্রণা তুঙ্গে ওঠে। প্রবল মাথা ব্যথা, বমি ভাব, অম্বল, এই সময়ে মাইগ্রেনের উপসর্গগুলির বাড়বা়ড়ন্ত শুরু হয়। কখনও কখনও ঘুমের পরেও অস্বস্তি কাটে না। ৩-৪ দিন টানা যন্ত্রণা সহ্য করে চলতে হয়। অতিরিক্ত তাপ, জলশূন্যতা, ঘুমের অনিয়ম এবং রোদে দীর্ঘ সময় থাকা, এ সবই মাইগ্রেন অ্যাটাককে বাড়িয়ে দিতে পারে। মাইগ্রেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তবে গরমের সময়ে কিছু নিয়ম মেনে চললে হয়তো তীব্রতা খানিক কমানো যেতে পারে।

Advertisement

যাপন ও খাদ্যাভ্যাসে কোন কোন বদল আনলে মাইগ্রেনের তীব্রতা কমতে পারে?

১. পর্যাপ্ত জলপান

জলশূন্যতা মাইগ্রেনের অন্যতম বড় সংঘটক হতে পারে। তাই গরমে নিয়মিত জল খাওয়া জরুরি। শুধু পিপাসা পেলেই নয়, সারা দিন অল্প অল্প করে ৩ লিটার জল খাওয়ার অভ্যাস রাখতে বলছেন চিকিৎসকেরা। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে জলের পরিমাণ নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত

২. খাওয়ার সময় নিয়ে সতর্কতা

দীর্ঘ ক্ষণ খালি পেটে থাকলেও অনেকের মাইগ্রেন বাড়তে পারে। তাই রোজ নির্দিষ্ট সময়ের অন্তর অন্তর খাবার খেতে হবে। বিশেষ করে গরমে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। সকাল ৯টার মধ্যে প্রাতরাশ সেরে ২টোয় মধ্যাহ্নভোজ করে নিয়ে ৮টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে।

৩. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার

পনির, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, আমন্ড, টোফু, কাবলি ছোলা, গ্রিক ইয়োগার্ট, ডাল, কিনোয়া ইত্যাদি খাবার ডায়েটে বেশি করে রাখতে হবে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম

কম বা অনিয়মিত ঘুম মাইগ্রেনের অন্যতম বড় কারণ। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি দিন প্রায় একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। আর দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম খুবই দরকার।

৫. কুমড়োর বীজ

রোজ প্রায় ১০টি কুমড়োর বীজ খেলে মাথা ধরার সমস্যার পাশাপাশি অন্যান্য রোগও দূরে থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত

৬. শাকসব্জি

দিনে প্রায় ৪০০ গ্রাম শাকসব্জি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার নানা ভাবে শরীরের উপকার করে।

৭. রস নয়, ফল

রস নয়, গোটা ফল চিবিয়ে খেতে হবে। নয়তো ফাইবার শরীরে পৌঁছোবে না।

৮. ক্যাফিনের ভারসাম্য

অতিরিক্ত চা, কফি বা সফ্‌ট ড্রিঙ্ক পান করলে কারও কারও মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার হঠাৎ ক্যাফিন পুরো বন্ধ করলেও মাথা ব্যথা হতে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তবে খালি পেটে চা-কফি খাওয়া উচিত নয়।

ছবি: সংগৃহীত

৯. চিনি এড়ানো

অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি, চকোলেট, চিজ় খেলে মাথার যন্ত্রণা বেড়ে যেতে পারে।

১০. জাঙ্ক ফুড এড়ানো

স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তা ছাড়া প্যাকেটজাত, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা স্ন্যাক্‌স পুরোপুরিই এড়িয়ে গেলে ভাল।

১১. রোদ এড়ানো

তীব্র রোদ ও গরম অনেকের ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা বাড়াতে পারে। তাই দুপুরের কড়া রোদে দীর্ঘ সময় না থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। প্রয়োজনে ছাতা, টুপি বা রোদচশমা ব্যবহার করতে বলছেন তাঁরা।

১২. স্ক্রিনটাইম কমানো

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করেন? কিন্তু উজ্জ্বল আলো ও দীর্ঘ স্ক্রিনটাইমও মাইগ্রেনের সংঘটক হতে পারে।

১৩. মানসিক চাপ কমানো

মানসিক চাপ এবং উদ্বেগও মাইগ্রেনের সঙ্গে জড়িত। তাই ধ্যান, শ্বাসের ব্যায়াম বা হালকা যোগাসনের অভ্যাস উপকারী হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন