ছবি : সংগৃহীত।
শীতের রোদ্দুর গায়ে মেখে খোলা ভেঙে বাদাম ভাজা খেতে খেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া এক জমানার অবসর বিনোদন ছিল। এ জমানায় অবসর যাপনের হাজারো উপায় হয়েছে। তবে বাদাম প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। এখনও বৈঠকী আড্ডায় বাদামের চাট বা এক বাটি বাদাম সঙ্গী হয়। বাদামের প্রত্যাবর্তন হয়েছে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক হিসাবেও। পুষ্টিবিদেরা এখন বলছেন, বিকেলে এটাসেটা খেতে ইচ্ছে করলে এক মুঠো বাদাম খান। বিশেষ করে শীতের এই সময়ে বিকেলে এক মুঠো বাদাম খেলে তার নানারকম উপকার রয়েছে।
১. বাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক তেল এবং ফ্যাট থাকে, যা শরীরে শক্তি যোগায় এবং ভেতর থেকে তাপ উৎপাদনে সাহায্য করে। এটি শীতের তীব্রতা থেকে শরীরকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে।
২. বাদামে থাকা ভিটামিন এবং জিংক এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় করে। ফলে শীতকালীন সাধারণ সর্দি-কাশি বা ফ্লু হওয়ার ঝুঁকি কমে।
৩. শীতকালে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় ত্বক ও চুল রুক্ষ হয়ে যায়। নানা ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে থাকে। বাদামে থাকা ভিটামিন ই এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভাল রেখে চুলকে উজ্জ্বল করে তোলে।
৪. শীতে মশলাদার এবং মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। যার প্রভাব পড়ে হার্টে। বাদাম শরীরের ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমিয়ে ‘ভালো’ কোলেস্টেরল অর্থাৎ এইচডিএল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাতে হার্টে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
৫. বাদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে, যা হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। শীতের সময়ে অনেকেরই বাতের ব্যথা বা অস্থিসন্ধির সমস্যা দেখা দেয়, নিয়মিত বাদাম খেলে সেই সমস্যার উপশম হতে পারে।
যা খেয়াল রাখা দরকার
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাদাম ভাজা খাওয়ার সময় অতিরিক্ত নুন এড়িয়ে চলাই ভালো। আর পরিমাণের দিকেও নজর রাখতে হবে। প্রতিদিন মোটামুটি এক মুঠো বাদাম শরীরের জন্য যথেষ্ট।