Heart disease risk factors

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ধরা পড়বে বহু আগেই, রোগীর প্রাণ বাঁচাবে রক্তের এক নতুন পরীক্ষা

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কতটা, তা জানতে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা হত এতদিন। কিন্তু নতুন রকম রক্তের পরীক্ষায় একই সঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ধরা পড়বে, আবার হৃদ্‌রোগ ও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না, তা-ও বোঝা যাবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৩
Why the apoB Blood Test is the New Gold Standard for Heart Risk

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক থেকে বাঁচাবে, রক্তের কোন পরীক্ষাটি করাতে হবে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কোলেস্টেরল পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বিশেষ এক রকম রক্ত পরীক্ষা করেই বলে দেওয়া সম্ভব যে, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না। এমনই দাবি আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের গবেষকদের। নতুন গবেষণা বলছে, কেবল কোলেস্টেরল মেপে হার্টের স্বাস্থ্যের আসল চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি’ নামে এক বিশেষ রকম প্রোটিনের উপস্থিতি বুঝতে পারলে তবেই বলা সম্ভব যে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কতটা। রক্তে এই প্রোটিন থাকলে তার পরিমাণ দেখে এ-ও বলে দেওয়া সম্ভব যে, সেই ব্যক্তির ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না।

Advertisement

কী এই ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি’?

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বুঝতে চিকিৎসকেরা লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়ে দেখতেন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কী মাত্রায় রয়েছে। কিন্তু এই পদ্ধতির একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ তো জানা গেল, কিন্তু কোলেস্টেরল বয়ে নিয়ে যাচ্ছে যে ক্ষতিকর কণারা, তাদের গতিপ্রকৃতি না ধরতে পারলে বোঝাই যাবে না যে কখন ও কী ভাবে সেই খারাপ কোলেস্টেরল প্লাকের মতো জমা হবে রক্তবাহী ধমনীতে। আর ধমনীতে প্লাক জমা মানেই রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। নতুন রক্তপরীক্ষায় সেই ক্ষতিকর কণাগুলির পরিমাণই দেখা হবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দু’জন মানুষের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা সমান হলেও তাদের ঝুঁকির মাত্রা আলাদা হতে পারে। কারণ, যার রক্তে ওই ক্ষতিকর কণার সংখ্যা বেশি, তার ধমনীতে চর্বি জমার আশঙ্কাও বেশি।

অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি এমন এক ধরনের প্রোটিন যা কোলেস্টেরলবাহী ওই ক্ষতিকর কণাগুলির ভিতরে থাকে। যার রক্তে ওই প্রোটিনের মাত্রা বেশি, বুঝতে হবে তারই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের উপর পরীক্ষাটি করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকেরা। পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে বা যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তারা এই পরীক্ষাটি করালে বড় বিপদের ঝুঁকি থেকে বেঁচে যাবেন বলেই আশা গবেষকদের।

Advertisement
আরও পড়ুন