lemon water side-effects

ওজন কমানোর আশায় লেবুজল খাওয়া অভ্যাসে পরিণত করেছেন? কারা সমস্যায় পড়বেন?

আদৌ লেবুজল সবার শরীরে কাজ করে কি না, কতটা খেলে শরীরের ক্ষতি করবে না, সেই সব না বুঝেশুনেই তাতে চুমুক দেওয়া ঠিক নয়। লেবুজল খাওয়ার আগে সঠিক নিয়ম জানা জরুরি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১৪:২৪
কোন কোন সমস্যা থাকলে লেবুজল খাওয়া ঠিক নয়?

কোন কোন সমস্যা থাকলে লেবুজল খাওয়া ঠিক নয়? ছবি: সংগৃহীত।

রোগা হওয়ার জন্য ডায়েট শুরু করলে অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই লেবুজলে চুমুক দিতে শুরু করেন। অথচ দিনের পর দিন লেবুজল খেলেও কাজ কিছুই হয় না। ওজন তো কমেই না, উল্টে নানা রকম শারীরিক সমস্যা শুরু হয়ে যায়। আদৌ লেবুজল সবার শরীরে কাজ করে কি না, কতটা খেলে শরীরের ক্ষতি করবে না, সেই সব না বুঝেশুনেই তাতে চুমুক দেওয়া ঠিক নয়।

Advertisement

লেবুর রসে পিএইচের মাত্রা থাকে ২-৩। তাই লেবুর রস কিন্তু ভীষণ অ্যাসিডিক। অনেকেই বেশি উপকারের আশায় এক গ্লাস জলে একটা গোটা লেবু দিয়ে সকালে খালি পেটে খেয়ে নেন। হজমজনিত সমস্যা থাকলে কিন্তু রোজের এই অভ্যাস শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অ্যাসিডিটি, পেট জ্বালা, পেট ফুলে গিয়ে অস্বস্তি হতে পারে এই কারণে। তাই পেটের সমস্যা থাকলে লেবুজল খাওয়ার আগে অবশ্যই পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। অতিরিক্ত গরম জলে লেবুর রস মেশালে লেবুর সব গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই জলের তাপমাত্রা মাথায় রাখতে হবে। এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে অর্ধেকটা লেবু মেশালেই যথেষ্ট।

দিনের পর দিন ধরে লেবুজল খেলে দাঁতের সমস্যাও শুরু হতে পারে। অনেকেই লেবুজল ধীরে ধীরে চায়ের মতো চুমুক দিয়ে খান। এতে কিন্তু দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হয়। এর ফলে দাঁতব্যথা বাড়তে পারে, দাঁতের ক্ষয়ও শুরু হতে পারে। লেবুজল খেতে হলে স্ট্র ব্যবহার করুন। আর খাওয়ার পর কুলকুচি করে মু‌খ ধুয়ে নিন।

লেবুজল খেলেই ওজন কমবে, এই ধারণার কারণে অনেকে বেশি মাত্রায় দিনে একাধিক বার এই পানীয় খেতে শুরু করেন। আদতে ওজন কমানোর সঙ্গে লেবুজলের কিন্তু প্রত্যক্ষ কোনও সম্পর্ক নেই। নিয়ম মেনে লেবুজল খেলে শরীরের সামগ্রিক উন্নতিতে তা কাজে আসে। তার প্রভাব ওজনের উপরেও পড়ে। ঘন ঘন লেবুজল খেলে কিন্তু বিপাকহার কমে যায়, ফলে ওজন কমে না। কোনও কিছুই অতিরিক্ত ভাল নয়। পরিমাণ বুঝে খেতে হবে।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস, মুখের আলসার, দাঁতের সমস্যা কিংবা অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই লেবুজল খাওয়া উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন