dehydration signs

খুদে একেবারেই জল খেতে চাইছে না? কোন কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে অভিভাবকদের?

ছ’মাসের পর থেকে অল্প অল্প করে শি‌শুদের জল খাওয়ানো শুরু করতে হবে। তবে জলের কোনও স্বাদ থাকে না, তাই অনেক শিশু প্রথম দিকে একেবারেই জল খেতে চায় না। তা ছাড়া ছ’মাসের পরেও স্তন্দুগ্ধ অথবা ফর্মুলা দুধের মাধ্যমে অনেকটাই জল পৌঁছোয় শিশুর শরীরে। তাই অতটাও জলের ঘাটতি হয় না শরীরে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩১
Your toddler don’t want to drink water at all, how to overcome this situation to avoid dehydration problem

শিশু ডিহাইড্রেশনে ভুগছে কি না বুঝেবেন কী দেখে? ছবি: সংগৃহীত।

শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না গেলে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা থাকে। গরমে অত্যধিক ঘাম, বমি বা ডায়েরিয়ার মতো রোগ হলে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। তখন নানা ভাবে শরীর জানান দেয় যে, ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন আপনি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আমরা সেগুলি বুঝতে পারি না। শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি। অনেক খুদেকেই জল খাওয়ানো কঠিন ব্যাপার। অথচ জল কম খাওয়ার কারণে শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা রকম সমস্যা।

Advertisement

শিশুর জন্মের পর থেকে ছ’মাস বয়স পর্যন্ত স্তনদুগ্ধ অথবা ফর্মুলা মিল্ক খায়, সেই সময় যতই গরম থাকুক না কেন শিশুকে আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ছ’মাসের পর থেকে অল্প অল্প করে শি‌শুদের জল খাওয়ানো শুরু করতে হবে। তবে জলের কোনও স্বাদ থাকে না, তাই অনেক শিশু প্রথম দিকে একেবারেই জল খেতে চায় না। তা ছাড়া ছ’মাসের পরেও স্তনদুগ্ধ অথবা ফর্মুলা দুধের মাধ্যমে অনেকটাই জল পৌঁছোয় শিশুর শরীরে। তাই অতটাও জলের ঘাটতি হয় না শরীরে। শিশু যদি সারা দিনে আট থেকে দশ বার প্রস্রাব করে, তাদের জি‌ভে আর্দ্রতা যদি ঠিক থাকে, ত্বকে কোনও রকম সমস্যা দেখা না যায়, সে ক্ষেত্রে শিশু আলাদা করে জল না খেলেও অভিভাবকদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।

তবে শিশু যদি সারা দিনে আট থেকে দশ বারের কম প্রস্রাব করে সে ক্ষেত্রে কিন্তু সতর্ক হতে হবে। সেই সময় কী করবেন?

১) জলের বদলে ফল পিউরি করে বা বেটে শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। আপেল, কলা, নাসপাতির মতো ফল সামান্য জল দিয়ে বেটে শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া মুসাম্বি, তরমুজ, বেদানা, আঙুরের মতো ফলের রস করেও এই সময় শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে।

২) সলিড খাবারের পাশাপাশি সব্জির স্যুপ বা চিকেন স্ট্যু রাখুন শিশুর রোজের ডায়েটে।

৩) এই সময়ে নিয়ম করে শিশুদের ডাবের জল খাওয়ানো যেতে পারে। এতে শরীরে জলের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

শিশু যদি প্রস্রাব ঠিক মতো করে সে ক্ষেত্রে অযথা কম জল খাচ্ছে বলে চিন্তা করবেন না। শিশুকে জোর করে জল খাওয়ানোর দরকার নেই। সে নিজে থেকে যতটা খাচ্ছে ততটাই খেতে দিন। কী ভাবে বুঝবেন শিশু ডিহাইড্রেশনে ভুগছে?

১) শিশুর শরীরে জলের ঘাটতি হলে ঠোঁট ও মুখের চারপাশ শুকিয়ে যায়। সে দিকে নজর রাখুন।

২) শিশু কান্নার সময়ে চোখ দিয়ে কম জল পড়ছে? এটা কিন্তু ডিহাইড্রেশনের একটা বড় চিহ্ন।

৩) শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রস্রাব হলুদ রঙের হবে। শিশু যদি দু’-তিন ঘন্টা অন্তর প্রস্রাব না করে, তা হলেও বু‌ঝবেন তার শরীরে জলের ঘাটতি হয়েছে।

৪) ডিহাইড্রেশন হলে শিশুরা সারা ক্ষণ ঝিমিয়ে থাকে। খেলাধুলা না করে দিনের বেশির ভাগ সময়েই সে ঘুমিয়ে থাকতে চায়। এই প্রবণতা দেখা দিলে এখনই সাবধান হোন।

৫) শিশুর শরীরে জলের ঘাটতি হলে তার মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে। শিশু সব সময়ে ঘ্যানঘ্যান করলে বা কান্নাকাটি করলে হতে পারে তার ডিহাইড্রেশন হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন