Various types of Tilak in astrology

কপালেই আঁকা থাকে ভক্তের পরিচয়! তিলকের আকার এবং উপাদান বলে দেবে উপাস্যের পরিচয়

হিন্দু ধর্মে তিলকের আকৃতি শুধুমাত্র একটি বাহ্যিক চিহ্ন নয়, বরং এর দ্বারা সেই ব্যক্তি কোন দেবতার উপাসক, তার পরিচয় পাওয়া যায়। তিলকের আকৃতি এবং উপকরণ দেখে জেনে নেওয়া যায়, কোনও ব্যক্তির আধ্যাত্মিক বিশ্বাস।

Advertisement
বাক্‌সিদ্ধা গার্গী
শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১১:০২

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

প্রাচীন শাস্ত্রানুসারে, আমাদের কপালে দুই ভ্রূর মাঝখানে যে স্থানটি রয়েছে, তাকে ‘আজ্ঞাচক্র’ বলা হয়। যা ‘তৃতীয় নয়ন’ নামেও পরিচিত। এটি শরীরের সাতটি চক্রের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়ে থাকেন শাস্ত্রবিদেরা। এখানে তিলক ধারণের মাধ্যমে এই কেন্দ্রটিকে জাগ্রত ও সক্রিয় রাখার চেষ্টা করা হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।

Advertisement

হিন্দু ধর্মে তিলকের আকৃতি শুধুমাত্র একটি বাহ্যিক চিহ্ন নয়, বরং এর দ্বারা সেই ব্যক্তি কোন দেবতার উপাসক, তার পরিচয় পাওয়া যায়। তিলকের আকৃতি এবং উপকরণ দেখে চিনে নেওয়া যায় তাঁর ঈষ্টদেবতাকে। আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী কে কোন ধরনের তিলক পরেন, তা জেনে নিন:

  • শৈব: দেবাদিদেব মহাদেব যাঁদের উপাস্য, তাঁরা ত্রিপুণ্ড্র তিলক ধারণ করেন। এটি তিনটি সমান্তরাল রেখায় কপাল জুড়ে অনুভূমিক ভাবে আঁকা হয়। এটি শিবের তিনটি চোখের প্রতীক বলে বিশ্বাস করেন ভোলানাথের ভক্তেরা। আবার অন্য মতে, এই তিনটি রেখা তিনটি গুণ (সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ), তিনটি জগৎ, অথবা ত্রিদেবের (ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর) পরিচয়বাহী। যজ্ঞভস্ম বা বিভূতি হল এই তিলকের উপকরণ। মনে করা হয়, ভস্ম নশ্বরতার প্রতীক এবং তা অহঙ্কার বিনাশ করে।

নাথ যোগীদেরও এই তিলক ধারণ করতে দেখা যায়।

  • শাক্ত: শক্তির পূজারিরা সিঁদুর বা লাল চন্দন দিয়ে আঁকেন একটি উলম্ব তিলক, যা ভ্রূমধ্য থেকে সোজা উঠে যায়। এটিকে তেজ ও শক্তির সংমিশ্রণ হিসাবে মনে করা হয়। শাক্তেরা একে দেবীর তৃতীয় নেত্র বলেও বিশ্বাস করে থাকেন। সাধকেরা বিশ্বাস করেন, কপালে এই চিহ্ন থাকলে তা দেবীর প্রতি সমর্পণের কথা জানান দেয়, নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষাও করে।
  • বৈষ্ণব: যাঁরা ভগবান বিষ্ণুর উপাসক, তাঁরা যে আকৃতির তিলক পরেন, সেটির নাম ‘ঊর্ধ্বপুন্ড্র’। এটি ‘আজ্ঞাচক্র’ থেকে শুরু হয়ে উলম্ব ভাবে উঠে যায়, ইংরেজি 'U' আকৃতির হয়। একে ভগবান বিষ্ণুর চরণযুগলের প্রতীক হিসাবে বিশ্বাস করে থাকেন তাঁর উপাসকেরা। এটি সাধারণত শ্বেতচন্দন দিয়ে আঁকা হয়।
  • গাণপত্য: গণপতির উপাসকেরা অনেক সময় কপালে ছোট একটি গোল তিলক ব্যবহার করেন। এটি পূর্ণতার প্রতীক হিসাবে গণ্য হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, ভগবান গণেশের প্রিয় রং লাল, তাই তাঁর ভক্তেরা রক্তচন্দন দিয়ে তিলক আঁকেন।

এ ছাড়া, অনেক গৃহস্থ চন্দনের ওপর সামান্য সিঁদুর বা কুমকুমের মিশ্রণ ব্যবহার করেন, যা কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, বরং ভক্তির রূপ।

Advertisement
আরও পড়ুন