শাস্ত্রমতে, হনুমানজি হলেন মঙ্গল
গ্রহের দেবতা। সেই কারণে জন্মছকে মঙ্গলের দোষ থাকলে পবনপুত্রকে পুজো করার নিদান
দেওয়া হয়। মঙ্গলবার এবং শনিবার করে হনুমানজির আরাধনা করার ফলে সুফল লাভ হয়। মনে
সাহসের সঞ্চার ঘটাতে এবং যে কোনও বিপদ থেকে বাঁচাতেও হনুমানজি সাহায্য করেন। এরই
সঙ্গে কোষ্ঠীতে থাকা শনিদোষের কুপ্রভাব থেকেও রক্ষা করেন বজরংবলী। তবে অনেকেই বলেন
যে বাড়িতে হনুমানজির মূর্তি রাখা উচিত নয়। অনেকে আবার সেটিকে ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে
দেন। শাস্ত্র কী বলে, সেটা জেনে নেওয়া যাক।
বাড়িতে হনুমানজির মূর্তি রাখায় কোনও বাধা রয়েছে?
বাড়িতে হনুমানজির মূর্তি রাখায় কোনও বাধা নেই। বজরংবলীর
মূর্তি বাড়িতে রাখা যায়। শাস্ত্রে সেই নিদানই দেওয়া রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু
নিয়ম মেনে সেই মূর্তি রাখতে হবে। অন্যথায় সুফল প্রাপ্তি হবে না।
বাড়িতে হনুমানজির মূর্তি রাখার ব্যাপারে কোন নিয়মগুলি
মানতে হবে?
- বাড়িতে কোন আকৃতির হনুমানজির মূর্তি আনছেন সেটি খেয়াল রাখা
গুরুত্বপূর্ণ। বড় আকৃতির হনুমানজির মূর্তি বাড়িতে রাখা উচিত নয়। সিংহাসনের আকার
বুঝে বাড়িতে বজরংবলীর মূর্তি আনতে হবে। সাধারণত ছোট থেকে মাঝারি আকৃতির হনুমানজীর
মূর্তি বাড়ির সিংহাসনে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।
- কিসের তৈরি হনুমানজির মূর্তি রাখছেন তার উপরও অনেক কিছু
নির্ভর করে। বাড়িতে পিতল বা মাটির তৈরি বজরংবলীর মূর্তি রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।
মার্বেলের তৈরি মূর্তিও রাখা যেতে পারে।
- বাড়ির যে স্থানে বজরংবলীর মূর্তিটি রাখবেন, সেই স্থান
নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সেই স্থানে ধুলোময়লা জমতে দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া
আশপাশে বিভিন্ন জিনিস রেখে জায়গাটিতে ভরিয়ে রাখাও নিষেধ।
- বাড়িতে বজরংবলীর মূর্তি সর্বদা দক্ষিণ দিক বা উত্তর দিকে
মুখ করে বসাতে হবে। অন্যান্য দিকে মুখ করে না বসানোই ভাল হবে।
- মেয়েরা হনুমানজীর পুজো দিতে পারেন। তবে সেই মূর্তি ছোঁয়া
যাবে না। মেয়েদের বজরংবলীর মূর্তি বা ছবি স্পর্শ করা নিষেধ।