রাবণ— শুভ-অশুভের যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, তাতে তাঁকে এক অন্ধকার চরিত্র হিসাবেই মানা হয়। তেমনটাই
বর্ণিত রয়েছে ‘রামায়ণ’-এ। তবে এর বিপরীত একটি বিশ্বাসও আছে। বলা হয়, তাঁর মধ্যেও ছিল নানা গুণের
সমন্বয়। তাঁর ছিল অগাধ জ্ঞান,
তিনি
সুশাসক ছিলেন বলেও মনে করা হয়। দশাননের ১০টি মাথা আসলে তাঁর প্রখর বুদ্ধির পরিচায়ক, এ কথাও বলে থাকেন কেউ কেউ। এ
ছাড়া তিনি ভক্ত হিসাবেও ছিলেন একনিষ্ঠ, দেবাদিদেব মহাদেবের উপাসক ছিলেন তিনি। রাশিচক্রের কয়েকটি রাশির মধ্যে
লঙ্কাধিপতির চারিত্রিক নানা গুণ দেখতে পাওয়া যায়। জেনে নিন সেই সম্বন্ধে—
-
পাণ্ডিত্য: দশানন রাক্ষসরাজ ছিলেন বটে, তবে কথিত আছে তাঁর জ্ঞানও ছিল অগাধ। বলা হয়ে থাকে, বেদ, জ্যোতিষশাস্ত্র, সঙ্গীত এবং আয়ুর্বেদে অপরিসীম দক্ষতা ছিল তাঁর। প্রচলিত বিশ্বাস, ‘শিবতাণ্ডব স্তোত্র’-এরও
রচনাকার তিনিই, যা তাঁর কবিত্বশক্তির
পরিচায়ক। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে,
এর
নেপথ্যে রয়েছে বুধ গ্রহের প্রভাব। কুম্ভ, মিথুন এবং কন্যারা জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী থাকেন।
-
দক্ষ প্রশাসক: মহাকাব্য অনুসারে, রাজা রাবণ লঙ্কাকে একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং সুসজ্জিত রাজ্যে পরিণত করেছিলেন।
তাঁর সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন, গড়ে তুলেছিলেন স্বর্ণলঙ্কা। জ্যোতিষমতে, এই গুণ দেখা যায় সিংহ রাশির
জাতকদের মধ্যে। এঁদের মধ্যে নেতৃত্বদানের একটি স্বাভাবিক গুণ থাকে।
-
অটল ভক্তি: রাবণ শিবভক্ত ছিলেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস। মহাদেবের কৃপা লাভের জন্য
বহু বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন। জ্যোতিষবিদদের মতে, এটি শুক্র ও বৃহস্পতির প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার ফলে মানুষের মধ্যে
আধ্যাত্মিকবোধ এবং ভক্তি জাগ্রত হয়। বৃশ্চিক ও মীন রাশির জাতক-জাতিকা বিশেষ ভাবে
এই গুণে গুণান্বিত।
-
সাহস: মহাকাব্যের কাহিনি থেকে জানা যায়, প্রবল পরাক্রমী এবং সাহসী ছিলেন লঙ্কেশ। কোনও শক্তির সঙ্গেই
মোকাবিলা করতে দ্বিধা করতেন না তিনি। জ্যোতিষীদের বিচারে, এর নেপথ্যে রয়েছে মঙ্গল গ্রহের নিয়ন্ত্রণ। এই গুণটি মেষ ও
বৃশ্চিক রাশির মধ্যে দেখা যায়।
-
আত্মবিশ্বাস: রাবণের নিজের ক্ষমতার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। জ্যোতিষবিদেরা
জানাচ্ছেন, সূর্যের কৃপায় এই
আত্মবিশ্বাস জন্মায়। সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের এই গুণ থাকে। তবে, অনেক সময় এই আত্মবিশ্বাস অহংয়ে
পরিণত হয়ে ভুল পথে চালিত করে এবং সর্বনাশ ডেকে আনে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল রাবণের
ক্ষেত্রে।