vastu tips about colours

সমস্যায় জেরবার? জীবনের সঙ্কটকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে শুভ পরিবর্তন আনবে রং, তবে বাছতে হবে জন্মতারিখ অনুযায়ী

অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিজীবন বা কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকি আমরা। জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই এর সমাধান হতে পারেন। আপনার জন্মসংখ্যা অনুযায়ী কোন রং ব্যবহার শুভ, সে বিষয়ে মেনে চলুন জ্যোতিষবিদদের পরামর্শ।

Advertisement
বাক্‌সিদ্ধা গার্গী
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩০

ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

সংখ্যাতত্ত্বের হিসাব জ্যোতিষশাস্ত্রের তুলনায় অনেক সহজ। জ্যোতিষশাস্ত্র বিষয়ে খুব গভীর জ্ঞান না থাকলেও কোনও মানুষের সঠিক জন্মতারিখ জানা থাকলেই তাঁর জন্মসংখ্যা জেনে নেওয়া সম্ভব। জন্মসংখ্যা হল কারও জন্মতারিখের সব ক’টি সংখ্যার যোগফলকে এক অঙ্কে নিয়ে এলে যা পাওয়া যায়, তাই। ধরে নেওয়া যাক, কেউ ১৯৯৩ সালে জুন মাসের ২৮ তারিখ জন্মেছেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর জন্মসংখ্যা জানার পদ্ধতি হবে, ২+৮+৬+১+৯+৯+৩= ৩+৮= ১+১= ২।

Advertisement

এই জন্মসংখ্যার বিচারে একজন মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নানা কথা জানা যায়। আবার এই গণনার নিরিখেই জাতক/জাতিকার জীবনের শুভ-অশুভ সম্পর্কেও নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন জ্যোতিষবিদেরা। সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, আপনার জন্য কোন কোন রং শুভ, তা জেনে নিন—

  • ১: শাস্ত্রমতে, এই জন্মসংখ্যার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে সূর্যদেবের। রবির প্রভাবে এঁরা নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়েই জন্মান এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন। এঁদের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হয় উজ্জ্বল রং।

যেমন: উজ্জ্বল হলুদ, লাল এবং কমলা।

  • ২: জ্যোতিষবিদেরা জানাচ্ছেন, চন্দ্রের আশীর্বাদ থাকে এই জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকার জীবনে। এঁরা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকেন। তাই, চাঁদের মতোই স্নিগ্ধ রং ব্যবহার করা এঁদের জন্য উপযুক্ত।

যেমন: সাদা, ঘিয়ে কিংবা আকাশি।

  • ৩: দেবগুরু বৃহস্পতির নিয়ন্ত্রণে থাকা এই জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা অগাধ জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন বলে প্রচলিত বিশ্বাস। সব সময় ইতিবাচক ভাবনা থাকে এঁদের মধ্যে। বাস্তুমতে, এঁদের ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী এমন রং ব্যবহার করা প্রয়োজন যা শুভ চিন্তার প্রতীক।

যেমন: গাঢ় হলুদ, সর্ষে বা কেশরের রং।

  • ৪: শাস্ত্রমতে, ছায়াগ্রহ রাহুর নিয়ন্ত্রণে থাকেন এই জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকারা। এঁরা অত্যন্ত পরিশ্রমী হন। পাশাপাশি কিছুটা কঠোর হৃদয়েরও হয়ে থাকেন। এঁদের ব্যক্তিত্বের কঠিন দিকটি প্রতিফলিত করবে, এমন রং ব্যবহারই যুক্তিযুক্ত।

যেমন: গাঢ় নীল, কালো, ধূসর।

  • ৫: বুধের আশীর্বাদে এই জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা অসাধারণ মেধার অধিকারী হন বলে বলা হয়ে থাকে। বুধ ব্যবসাক্ষেত্রেরও নিয়ন্ত্রক। তাই এঁদের জন্য এমন রং উপযুক্ত যা কোনও কিছুর সূচনা, আর্থিক লাভ বা পেশাগত উন্নতির পরিচায়ক।

যেমন: সবুজ বা হলুদ গোত্রের যে কোনও রং।

  • ৬: এই জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা সৃজনশীল এবং র‌্যোমান্টিক স্বভাবের হয়ে থাকেন। এর কারণ হিসাবে রাক্ষসগুরু শুক্রাচার্যের কৃপার কথা বলা হয়েছে শাস্ত্রে। তাই এই জাতকদের এমন কোনও রং ব্যবহার করা উচিত, যা এই বিশেষ রুচির পরিচায়ক।

যেমন: সাদা, গোলাপি বা অন্য কোনও হালকা রং।

  • ৭: শাস্ত্র জানায়, ছায়াগ্রহ কেতুর অবদান রয়েছে এই জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকাদের জীবনে। এঁদের জীবনবোধ অত্যন্ত গভীর হয়। এই গভীরতাকেই প্রতিফলিত করে এমন রং ব্যবহারই এঁদের ক্ষেত্রে শুভ।

যেমন: ধূসর বা বাদামি।

  • ৮: স্পষ্টবাদী এবং ন্যায়পরায়ণ হয়ে থাকেন এই জন্মসংখ্যার ব্যক্তিরা। এর কারণ হিসাবে জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, এঁরা রয়েছেন কর্মফলদাতা শনিদেবের নিয়ন্ত্রণে। এঁদের চরিত্রের শক্তিশালী দিকটি ফুটিয়ে তুলবে এমন রং ব্যবহারই ভাল।

যেমন: গাঢ় নীল এবং কালো।

  • ৯: বাস্তুবিদেরা বলছেন, লাল গ্রহ মঙ্গলের অধীনে থাকেন এই জন্মসংখ্যার জাতক-জাতিকারা। এই কারণে এঁরা নির্ভীক হয়ে থাকেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এঁদের জন্য এমন রংই উপযুক্ত যা মানসিক দৃঢ়তাকে ফুটিয়ে তোলে।

যেমন: লাল এবং মেরুন।

Advertisement
আরও পড়ুন