ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যার কোনও ক্ষয় নেই। হিন্দুদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র একটি দিন। এই দিনে সুখ-সমৃদ্ধির বাসনা নিয়ে ঈশ্বরের আরাধনা করে থাকে সাধারণ মানুষ। বিশ্বাস করা হয় যে, এই শুভ দিনে যে কাজই করা হোক না কেন, তার ফল হয় সুদূরপ্রসারী, তা অনন্তকাল ধরে সফলতা এবং প্রাচুর্য বয়ে আনে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই পুণ্য তিথিতে বিশেষ এক পদ্ধতিতে পুজো করলে বাড়িতে কখনও খাদ্যের অভাব হয় না। জেনে নিন সেই পূজাপদ্ধতি:
একটি ছোট রুপো বা পিতলের পাত্র
১টি আস্ত কাঁচা হলুদ
৩-৪টি কড়ি
৩টি মুদ্রা (রুপোর বা অন্য যে কোনও)
সামান্য চাল (সেগুলি যেন কোনও ভাবেই ভাঙা না হয়)
হলুদ এবং কুমকুম
লাল বা হলুদ রঙের কাপড়
৩টি গোমতিচক্র
৩টি পদ্মবীজ
নাগকেশর (পরিষ্কার ও অক্ষত)
কয়েকটি ধনেবীজ
২০ এপ্রিল, সোমবার অক্ষয় তৃতীয়া। যদিও রবিবারই তিথি পড়ে যাচ্ছে বলে অনেকে সেই দিনটিতে অক্ষয় তৃতীয়া পালন করবেন। তবে হিন্দু ধর্মে, তিথি যে দিন ভোর পায়, সেই দিনটি পালিত হয়। সেই অনুযায়ী সোমবারই অক্ষয় তৃতীয়া পড়ছে। তাই বিশেষ এই পুজো করুন সোমবার ভোরেই।
গঙ্গাজল বা পরিষ্কার জলে পাত্রটি ধুয়ে নিন। এর পর হলুদ ও কুমকুমের তিলক আঁকুন। এ বার ‘ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লীং শ্রী সিদ্ধ লক্ষ্ম্যৌ নমঃ’ মন্ত্র জপ করতে করতে পাত্রটিতে অক্ষত চাল, নাগকেশর এবং পুজোর অন্যান্য উপকরণগুলি (কাঁচা হলুদ, কড়ি, মুদ্রা, গোমতিচক্র, পদ্মবীজ, ধনেবীজ) রাখুন। শাস্ত্রমতে, এটিই ‘অক্ষয় পাত্র’। পাত্রের উপর কাপড়টিও রাখুন।
এর পর হাতে জল নিয়ে সংকল্প করুন যে আপনি সুখ, সমৃদ্ধি এবং অফুরান খাদ্য ও সম্পদের জন্য এই ‘অক্ষয় পাত্র’টি আপনার গৃহে স্থাপন করছেন। মা অন্নপূর্ণাকে একাগ্র চিত্তে স্মরণ করে ‘অন্নপূর্ণে সদাপূর্ণে শঙ্করপ্রাণবল্লভে। জ্ঞানবৈরাগ্যসিদ্ধয়র্থং ভিক্ষাং দেহি চ পার্বতি।।’ মন্ত্রটি কমপক্ষে ১০৮ বার জপ করে প্রার্থনা করুন যেন আপনার পরিবারের কোনও সদস্য কখনও অভুক্ত না থাকেন। পাত্রটির সামনে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান এবং এটিকে উত্তর-পূর্ব দিকে (ঈশান কোণে) রাখুন।
অনেকে ‘অক্ষয় পাত্রে’ লক্ষ্মী-নারায়ণের যুগল মূর্তিও স্থাপন করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে একমনে ‘ওঁ লক্ষ্মী-নারায়ণাভ্যাম নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করতে হবে।
ভক্তিভরে বিশেষ এই উপায়ে পুজো করলে সংসারের মঙ্গল হবে বলে জানাচ্ছেন শাস্ত্রবিদেরা।