ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
হায়দরাবাদ থেকে কর্নাটকের হুব্বাল্লি শহরে যাওয়ার পথে মাঝ-আকাশে বিমানে বিপত্তি। ফ্লাই৯১ নামের একটি সংস্থার বিমান রবিবার প্রায় চার ঘণ্টা আকাশে চক্কর কেটেছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি অবতরণে বাধা পায়। তবে অন্য কোনও কোনও সূত্রে দাবি, বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গিয়েছিল। সেই কারণে বিমানটি অবতরণ করানোর সাহস পাচ্ছিলেন না পাইলট। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পরে ওই বিমান বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের মূল গন্তব্য হুব্বাল্লিতে পৌঁছে দেওয়া হয় রাত ১১টায়।
হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাই৯১-এর আইসি৩৪০১ বিমানটি রওনা দিয়েছিল বিকেল ৩টেয়। হুব্বাল্লিতে ওই বিমান নামার কথা ছিল সাড়ে ৪টের মধ্যে। কিন্তু হুব্বাল্লির আকাশে পৌঁছে গেলেও বিমান নামাতে পারেননি পাইলট। ঝড়বৃষ্টির কারণে তা আটকে পড়ে। অবতরণের সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করে দেন পাইলট। সূত্রের খবর, এর পর প্রায় চার ঘণ্টা ধরে বিমানটি আকাশে চক্কর কাটতে থাকে। কখনও মুন্ডগোড়, কখনও দাবানাগেরে, কখনও শিবমোজ্ঞার উপর পৌঁছে যায় তা। কর্নাটকেরই বিভিন্ন শহরে অবতরণের চেষ্টা করতে থাকে বিমানটি। কিন্তু অবতরণের জন্য নিরাপদ জায়গা পাচ্ছিলেন না পাইলট। মিলছিল না এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) অনুমতিও।
বিমানটিতে ২২ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অবতরণে সমস্যার কথা শুনে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সমাজমাধ্যমে বিমানের মধ্যেকার কিছু ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে যাত্রীরা কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছেন। প্রাণভয়ে কেউ ঈশ্বরকে স্মরণ করছেন। কেউ আবার পাশের যাত্রীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কেন বেঙ্গালুরুর দিকে বিমান নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না, কেন অন্য কোনও বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করানো হচ্ছে না, প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। বিমানকর্মীরা সকলকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করছেন। এক জনকে বলতে শোনা যায়, ‘কেঁদো না, কেঁদো না, কিছু হবে না। অপেক্ষা করো। ধৈর্য ধরো।’’ এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
শেষ পর্যন্ত বিমান নিরাপদে নামলেও সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকে। তবে ফ্লাই৯১-এর বক্তব্য, আবহাওয়া খারাপ থাকলে বিমান আকাশে চক্কর কাটাই স্বাভাবিক। এটি সম্পূর্ণ পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। তাদের তরফে কোনও গাফিলতি মানতে চায়নি বিমানসংস্থা।