— প্রতীকী চিত্র।
‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?’ ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ কাব্যগ্রন্থে পঙক্তিটি লিখেছিলেন কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালেও এই প্রশ্ন সমান ভাবে প্রযোজ্য। ‘রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস’ নামে একটি সংস্থার সাম্প্রতিক সমীক্ষা-রিপোর্টে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাহীনতায় প্যালেস্টাইনকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। ১৮০টি দেশের মধ্যে প্যালেস্টাইন রয়েছে ১৫৬তম স্থানে। ভারত ঠিক তার পরের স্থানে, ১৫৭তম। নয়াদিল্লি অবশ্য বরাবরই সমীক্ষার পদ্ধতিকে অস্বচ্ছ বলে উড়িয়ে দিয়ে এসেছে।
প্যালেস্টাইনে ক্রমাগত হিংসার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকেরা। বোমায় জখম, প্রাণহানি থেকে শুরু করে দিনের পর দিন অভুক্ত থাকা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া— দীর্ঘ যুদ্ধে এমন বহু হামলার সাক্ষী তাঁরা। তার পরেও গত বছরের সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে রাশিয়ার থেকে ভাল অবস্থা প্যালেস্টাইনের। এ বারে বলা হয়েছে, ভারতের তুলনায় স্বাধীন তারা। শুধু প্যালেস্টাইনই নয়, তাজিকিস্তান (১৫৫), লাওস (১৫৪), পাকিস্তান (১৫৩), বাংলাদেশ (১৫২) ও কাম্বোডিয়া (১৫১)-র থেকেও পিছিয়ে ভারত। তালিকায় ভারতের পিছনে রয়েছে মাত্র ২৩টি দেশ।
এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় টানা দশ বছর প্রথম স্থান দখল করেছে নরওয়ে। পূর্ব আফ্রিকার দেশ এরিট্রিয়া পরপর তিন বার সর্বশেষ স্থানে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার স্থান এ বছর অনেকটা নীচে নেমে গিয়েছে, ৬৪তম স্থানে। সমীক্ষার সূচকগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাংবাদিকদের আইনি স্বাধীনতা। তাতে দেখা গিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল—এই সময়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১১০টি দেশেই পরিস্থিতির অধঃপতন ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ভারতের নাম। বলা হয়েছে, এ দেশে সংবাদমাধ্যমের জন্য আইনি পরিবেশ বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছে।
গত বছর ভারতের স্থান ছিল ১৫১। এ বছর নম্বর আরও কমার পিছনে মূলত তিনটি কারণ: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনি সূচক। সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও নিউজ়রুমকে আরও বেশি চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে আইনি পরিকাঠামো ব্যবহার করে। ভারতের সংবাদ সংস্থাগুলিকে যে ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে, তা উদ্বেগের। কখনও মানহানি, তো কখনও জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে তাদের উপর। এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রত্যক্ষ ভাবে নিশানা করা হচ্ছে সাংবাদিকদের।’ রিপোর্টে লেখা হয়েছে, ‘২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার গঠনের পর থেকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের উপর হিংসার ঘটনা বেড়েছে, অত্যধিক কেন্দ্রীভূত গণমাধ্যমের মালিকানা, সংবাদপত্র-খবরের চ্যানেলগুলির কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বেড়েছে।’
এ বিষয়ে ভারতের উত্তর বরাবরই গতানুগতিক। যে পরিমাণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে সমীক্ষা করা হয়েছে, তা খুব কম/ সমীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে/ সমীক্ষক সংস্থাটি নিরপেক্ষনয় ইত্যাদি।