Bengaluru Couple Death

বেঙ্গালুরুর দম্পতির মৃত্যুর জন্য দায়ী ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’! চাকরি চলে যাওয়ায় মানসিক অবসাদ, আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন

বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাট থেকে চন্দ্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর কথা জানার পর সেই শোক সহ্য করতে না পেরে শাজ়িয়াও একটি বহুতলের ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ দেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৫
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বেঙ্গালুরুর দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় নয়া তথ্য প্রকাশ্যে এল। সন্দেহ করা হচ্ছে, চাকরি চলে যাওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী বানুচন্দ্র রেড্ডি। তিনি তেলঙ্গানার বাসিন্দা। কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী শাজ়িয়া সিরাজও একটি আন্তর্জাতিক মানের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সোমবার দু’জনেরই দেহ উদ্ধার হয়।

Advertisement

বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাট থেকে চন্দ্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর কথা জানার পর সেই শোক সহ্য করতে না পেরে শাজ়িয়াও একটি বহুতলের ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ দেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, আমেরিকায় একটি সংস্থায় কাজ করতেন চন্দ্র। কিন্তু বছরখানেক আগে তাঁর চাকরি চলে যায়। ওই সংস্থায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়। ফলে অনেকের চাকরি চলে যায়। সেই তালিকায় ছিলেন চন্দ্রও।

পুলিশ জানিয়েছে, চাকরি চলে যাওয়ার পর আমেরিকায় স্থানীয় কোনও চাকরি পাচ্ছিলেন না চন্দ্র। ফলে তিনি দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। দেশে ফিরে চকরির সন্ধানে বেঙ্গালুরুতে চলে আসেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। কিন্তু বেঙ্গালুরুতেও উপযুক্ত চাকরি পাচ্ছিলেন না চন্দ্র। ফলে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। আর্থিক সমস্যাও বাড়তে শুরু করেছিল। ভিন্‌ধর্মের তরুণীকে বিয়ে করায় পরিবারের সদস্যেরা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ফলে এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারের কাউকেই পাশে পাননি চন্দ্র। ভিন্‌ধর্মে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়েও একটা মানসিক চাপে ছিলেন চন্দ্র। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চন্দ্রের বাবা তেলঙ্গানার একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক। ফলে সে দিক থেকেও চাপ আসছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

বেঙ্গালুরুতে চলে যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী একটি বহুজাতিক সংস্থায় কাজ শুরু করেন। কিন্তু চন্দ্র কাজ না পাওয়ায় ক্রমশ ভেঙে পড়ছিলেন। কাজের জন্য চন্দ্রের স্ত্রী দিন কয়েকের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। সোমবার তিনি বাড়িতে ফেরেন। তখন জানতে পারেন তাঁর স্বামী আত্মঘাতী হয়েছেন। এই শোক সহ্য করতে না পেরে শাজ়িয়াও আত্মঘাতী হন।

Advertisement
আরও পড়ুন