পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হওয়ার কারণে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে। ছবি: পিটিআই।
উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের জোরালো হচ্ছে একটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। তার জেরে ভারতের এই অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। ফলে দেশের এই অংশে তাপমাত্রার পারদপতন হবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকেই এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হয়েছে। ৩ এপ্রিলের মধ্যে সেটি শক্তি বাড়িয়ে আরও জোরালো হতে পারে। ফলে ৩ এবং ৪ এপ্রিল থেকে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। কোনও কোনও জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা দেশের মধ্যাঞ্চলেও। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি জারি থাকবে। তবে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত শিলাবৃষ্টি চলতে পারে। এই সময়ে তাপমাত্রার পারদ নামবে।
প্রসঙ্গত, এপ্রিলের শুরুতেও দেশের অনেকাংশে এখনও তাপমাত্রা সে ভাবে বাড়েনি। তার মধ্যে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে দেশের বেশির ভাগ প্রান্তেই ঝড়বৃষ্টি চলছে। ফলে সে ভাবে তাপমাত্রার পারদ এখনও চড়েনি। মার্চের শেষের দিকেও পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে দিল্লি এবং এনসিআর-সহ উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টি হয়েছে। তবে পশ্চিমি ঝঞ্ঝাটি দেশের বিশাল অংশ জুড়ে বিস্তৃত হওয়ায়, এখনই ঝড়বৃষ্টি থেকে সহজে রেহাই মিলবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। একটি শক্তিশালী পশ্চিমি ঝঞ্ঝা গুজরাত এবং রাজস্থান সীমায় অবস্থান করছে। সেটি যখন উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করবে তখন আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে ভারী বৃষ্টি, তুষারপাত এবং ঝড় হতে পারে। পঞ্জাব, রাজস্থানে ঝড়বৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও হরিয়ানা, দিল্লি-এনসিআর, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে।
এই সময়ে মহারাষ্ট্রের মধ্য এবং দক্ষিণ ভাগ, ছত্তীসগঢ়, তেলঙ্গানা, ওড়িশার একাংশ এবং পশ্চিমবঙ্গেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে সাধারণত ৫-৬টি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হয়। কিন্তু এ বার সেখানে ৮টি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আরও তিনটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হতে পারে।