(বাঁদিক থেকে) হুমায়ুন কবীর, আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং বদরুদ্দিন আজমল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় এসে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে পাশে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে জোটের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তেলঙ্গানার হায়দরাবাদের সাংসদ তথা মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ‘নজরে’ এ বার পূর্ব ভারতের আর এক ভোটমুখী রাজ্য অসম। সেখানে প্রাক্তন সাংসদ বদরুদ্দিন আজমলের দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে ‘পশ্চিমবঙ্গ মডেল’ মেনে আসন ভাগাভাগি নয়, অসমের কোটিপতি আতর ব্যবসায়ী বদরুদ্দিনের দলের হয়ে প্রচারে অংশ নেবেন ওয়েইসি। মিমের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২ এবং ৩ এপ্রিল ওয়েইসি অসমে এআইইউডিএফ প্রার্থীদের সমর্থনে একাধিক জনসভায় ভাষণ দেবেন। তার মধ্যে রয়েছে বদরুদ্দিন আজমলের কেন্দ্র, হজোই জেলার বিন্নাকান্দিও। ওয়েইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে অসমের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা প্রবল হল বলে মনে করা হচ্ছে।
বদরুদ্দিনের তথা অসমের প্রাক্তন বিধায়ক আবদুল রহমান আজমলের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ওয়েইসির বৈঠকে যৌথ প্রচারের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে বলে এনডিটিভি প্রকাশিত খবরে দাবি। পশ্চিমবঙ্গের পরে অসমের বিধানসভা ভোটে ওয়েইসির ‘উপস্থিতি’ পূর্ব ভারতে দলের উপস্থিতি জোরদার করার বৃহত্তর উদ্যোগের ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। গত নভেম্বরে বিহারের বিধানসভা ভোটেও পাঁচটি আসনে জিতেছেন মিম প্রার্থীরা।
অসমে এআইইউডিএফের ভোটব্যাঙ্কের একটি বড় অংশ বাংলাভাষী মুসলিমেরা। যাঁদের আর একটি অংশ কংগ্রেসের সমর্থক। ঘটনাচক্রে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেই ১৬টি আসনে জিতেছিলেন বদরুদ্দিনের দলের প্রার্থীরা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে সমঝোতা ভেঙে যায়। একা লড়ে এআইইউডিএফ একটি আসনেও জিততে পারেনি। ধুবুড়িতে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন স্বয়ং বদরুদ্দিন! এর পরে তাঁর দলের কয়েক জন নেতা-বিধায়ক দলত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। আগামী ৯ এপ্রিল অসমের ১২৬টি আসনে এক দফায় নির্বাচন হবে।