Assam Election

শাহ-ওয়েইসিদের অসমের সভায় তাস মেরুকরণই

শাহ ও যোগী তাঁদের একাধিক সভায় মূলত অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, ভূমিপুত্রদের স্বার্থরক্ষার উপরে জোর দিয়েছেন। তবে মেঘালয় লাগোয়া দুধনৈয়ের রাভা জনজাতি এলাকায় বিজেপির গো-রাজনীতির নতুন সমীকরণ হাজির করেন শাহ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৬
(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং আসাদুদ্দিন ওয়েইসি  (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং আসাদুদ্দিন ওয়েইসি (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথ যখন অসমের জনসভাগুলি থেকে হুমকি দিচ্ছেন, অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ বাসিন্দাদের চিহ্নিত করাই আছে, ক্ষমতায় ফিরেই দেশ থেকে তাড়ানো হবে তাঁদের— তখন এই রাজ্যেরই সংখ্যালঘু এলাকাগুলিতে একের পর এক জনসভা চালিয়ে এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েইসি বিজেপির ভয়, হুমকি, অত্যাচারের রাজনীতির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন।

শাহ ও যোগী তাঁদের একাধিক সভায় মূলত অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, ভূমিপুত্রদের স্বার্থরক্ষার উপরে জোর দিয়েছেন। তবে মেঘালয় লাগোয়া দুধনৈয়ের রাভা জনজাতি এলাকায় বিজেপির গো-রাজনীতির নতুন সমীকরণ হাজির করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘দুধনৈ কথার অর্থ দুধের নদী। কিন্তু এখানে কোনও ডেয়ারি ফার্ম নেই। বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে সব জেলায় হবে ডেয়ারি ফার্ম, সব জনজাতি পরিবারকে সরকার একটি করে গরু ও মোষ দেবে।

মোদী সরকারের বিভিন্ন জনজাতি উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরে শাহ বলেন, “কংগ্রেস সব সময়ে ভোটের রাজনীতি করেছে, কিন্তু আদিবাসীদের উন্নয়নের কথা ভাবেনি। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও তারা কোনও আদিবাসী মহিলাকে রাষ্ট্রপতি করতে পারেনি, যা মোদীজি করেছেন।’’ মেঘালয়ের গারো পাহাড় এলাকায় সাম্প্রতিক অশান্তির জন্যও তিনি অনুপ্রবেশকারীদের দায়ী করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, বিদেশি জবরদখলকারীরা শুধু অসমের জমিই নয়, গারোদের স্বশাসিত পরিষদও দখল করতে চাইছে। তারা স্থানীয় মেয়েদের বিয়ে করে সম্পদ ও অধিকার কুক্ষিগত করছে।

শাহের অভিযোগ, অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধেই পাকিস্তানের চর হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ও যোগী দাবি করেন, কংগ্রেস এবং ইউডিএফ অসমকে অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গে পরিণত করেছিল। ফের কংগ্রেসের সরকার হলে জনজাতি এবং ভূমিপুত্ররাই ভিটেছাড়া, অধিকারহারা হয়ে পড়বেন। বিজেপি অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বার করতে করতেই ভোট এসে গিয়েছে। তৃতীয় বার বিজেপি অসমে ক্ষমতায় এলে সব অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠাবে। রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর আশ্বাসের পাশাপাশি বহুবিবাহ, জমি জেহাদ, লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন বিজেপি নেতারা। তবে শাহ আশ্বাসও দিয়েছেন যে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় জনজাতিরা পড়বেন না।

অন্য দিকে, ওয়েইসি ইউডিএফের সমর্থনে সভা করে দাবি করেছেন, সংখ্যালঘুদের উপরে অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে বিজেপি। কংগ্রেসও তা নিয়ে নীরব। তাদের নেতারাই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তাই সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষায় একমাত্র ভরসা ইউডিএফ। ভবিষ্যতে তারাই অসমের রাজনীতির গতি নির্ধারণ করবে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা স্পষ্ট যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের পূর্ববঙ্গীয় মূলের মিঁয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে। ওয়েইসির দাবি, হিমন্ত যে ভাবে মুসলিমদের গুলি করার ভিডিয়ো বানাচ্ছেন, মুসলিমদের তাড়ানো, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার কথা বলছেন, তা চরম অসাংবিধানিক। এর বিরুদ্ধে মুসলিমদের একজোট হতে হবে। আইনের আওতায় থেকেই প্রতিবাদ জানাতে হবে। ওয়েইসি বলেন, ‘‘অসমের মিঁয়া মুসলিমদের অধিকার ও সুরক্ষার কথা বলতেই এসেছি।’’

অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, এনআরসি ও সিএএ প্রসঙ্গে ওয়েইসি বলেন, ‘‘এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় মাত্র ২ লক্ষ মুসলিমের নাম বাদ পড়েছে, বাকি সাড়ে ১৭ লক্ষ হিন্দু। তা হলে তো অবৈধ নাগরিক হিসেবে তাঁদের আগে বিতাড়িত করতে হয়। উল্টে নাম থাকা মুসলিমদেরই হেনস্থা করা হচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে সংখ্যালঘুদের শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্বের প্রশ্নকে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ব্যবহার করাউচিত নয়।”

রাজ্য সরকারের উচ্ছেদ অভিযানকেও ‘সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক’ বলেছেন ওয়েইসি। তিনি জানান, এই বিষয়ে ইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বিকল্প জমি না দিয়ে বনভূমি থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না। ওয়েইসির দাবি, অসমে বেছে বেছে প্রায় ৫০ হাজার সংখ্যালঘু মানুষকে অন্যায় ভাবে উচ্ছেদকরা হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, ওয়েইসিকে দিয়ে অসমে প্রচার চালানো আদতে সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করে মুসলিম ভোট বিভাজিত করার উদ্দেশ্যে বিজেপির চক্রান্ত। হিমন্ত এ দিন শিলচরে রোড শো করে দাবি করেছেন, বরাক উপত্যকার ১৩টি আসনের মধ্যে ৯-১১টি আসন বিজেপি পাবে।

আরও পড়ুন