হরমুজ় প্রণালী। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
হরমুজ় প্রণালী পেরোনোর সময় ভারতীয় ট্যাঙ্কারে ইরানের গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দু’দেশের মধ্যে চাপানউতর শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই একটি অডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, ওই অডিয়োটি (যদিও ওই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) পাওয়া গিয়েছে ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’ থেকে, যা হরমুজ় পার হওয়ার সময় ‘আক্রান্ত’ হয়। দাবি, ওই অডিয়োটি সানমার জাহাজে থাকা এক কর্তার। সেই অডিয়োতে শোনা গিয়েছে, ওই কর্তা ইরানের নৌবাহিনীর উদ্দেশে বলছেন, ‘‘আপনারাই তো আমাদের হরমুজ় পার করার ছাড়পত্র দিয়েছেন। এখন গুলি চালাচ্ছেন!’’
ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্বের রেশ পড়েছে হরমুজ়ে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর পরই ইরান হরমুজ় ‘অবরোধ’ করে। তারা স্পষ্ট জানায়, কোনও জাহাজ ওই জলপথ পার করতে দেবে না। কেউ পার করার চেষ্টা করলে, হামলা চালানো হবে। তবে পরে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে হরমুজ়ে ছাড় দেয় ইরান। তার পর থেকে কয়েকটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতে এসেছে। তবে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকার শান্তিবৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ়ে।
শুক্রবার সন্ধ্যার (ভারতীয় সময়) ইরান ঘোষণা করেছিল, তারা হরমুজ়ে অবরোধ তুলে নিচ্ছে। যত দিন ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি থাকবে, তত দিন হরমুজ়ে কোনও জাহাজকে আটকাবে না তারা। তবে সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি পুরো পাল্টে যায়। আমেরিকা জানায়, তারা হরমুজ়ে ‘অবরোধ’ তুলতে রাজি নয়। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার হরমুজ়ে অবরোধ শুরুর কথা ঘোষণা করে তেহরান।
এই অচলাবস্থার মধ্যে হরমুজ় পার হওয়ার সময় ইরানের নৌবাহিনীর গুলি লাগে ভারতীয় ট্যাঙ্কারে। শনিবার ব্রিটিশ সেনার তরফে এই হামলার বিষয়টি প্রথম জানানো হয়। তারা জানায়, ইরানের ‘রেভলিউশনারি গার্ড’ দু’টি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। ঘটনাটি ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে হয়েছে! প্রথমে জানা যায়নি কোন দুই পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারের উপর গুলি চলেছে। পরে জানা যায়, দু’টিই ভারতীয় জাহাজ! ‘জগ অর্ণব’ নামের ভারতীয় ট্যাঙ্কারটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে সৌদি আরব থেকে ভারতের দিকে আসছিল। ওই ট্যাঙ্কারটির পিছনেই ছিল আরও একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’। সেটি ইরাক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছিল। সেই দু’টি জাহাজে হামলা হয়।
‘সানমার হেরাল্ড’ ট্যাঙ্কারের থেকে পাওয়া অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ্যে আসার পর ‘স্পষ্ট’ যে হরমুজ় পার করার অনুমতি ছিল ওই জাহাজের। সেখানে থাকা নাবিককে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‘আপনারাই আমাদের যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আপনাদের ছাড়পত্রের তালিকায় আমাদের নাম ছিল। এখন আপনারাই গুলি চালাচ্ছেন। আমাদের ফিরে যেতে দিন।’’ তবে তার পরেও কেন ওই জাহাজে ইরান গুলি চালাল, নিছক ভুল নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। শনিবারই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালিকে তলব করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। পরে বিবৃতি দিয়ে জয়শঙ্করের মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যায় ফাতালির সঙ্গে দেখা করেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিস্রি। সেখানে ভারতীয় জাহাজে হামলার বিষয় নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন তিনি। বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপত্তার প্রতি ভারতের গুরুত্বের উপর জোর দেন বিক্রম। অতীতে হরমুজ় দিয়ে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতে ইরানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ফাতালির কাছে। যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ়ে জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তারা আরও জানিয়েছে, ফাতালি আশ্বাস দিয়েছেন তিনি ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি তেহরান কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।